×
Logo

শিল্প ও সাহিত্য

শতবর্ষে উত্তম— এখনও উজ্বল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৬ পিএম

শতবর্ষে উত্তম— এখনও উজ্বল

জন্মের ১শ বছরে পা দিলেন সাদাকালো পর্দার উজ্বল নায়ক উত্তম কুমার। নায়ক তো অনেকেই হন, কিন্তু ‘মহানায়ক’ হয়ে ওঠেন ক’জন? বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উত্তম কুমার নামটি মহানায়ক উপমার জন্য যথেষ্ট। যার হাসি, চোখের ভাষা, অভিনয় আর ব্যক্তিত্ব কয়েক প্রজন্মকে মুগ্ধ করে চলেছে। পর্দায় সিনেমার ভাষা বা দর্শকমনের রুচি বদলালেও তিনি এখনও উজ্বল, এখনও প্রাসঙ্গিক। 

উত্তম কুমারের বড় কৃতিত্ব প্রচলিত ছাঁচের গণ্ডির বাইরে বের হয়ে আসা। রোম্যান্টিক নায়ক হিসেবে বিপুল জনপ্রিয়তা পেলেও নিজেকে আটকে রাখেননি কোন গন্ডিতে। চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি বদলেছেন নিজেকে, আরোহন করেছেন অভিনয়ের নানা স্তরে। কৃতিত্বের সময়ে নায়ক উত্তম ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছেন মহানায়ক হিসেবে।

পরিবারের সাথে উত্তম। ছবি: আনন্দবাজার 

উত্তম কুমারের ব্যক্তিগত জীবন কম আলোচিত নয়। গৌরী দেবীর সঙ্গে বিবাহিত জীবন এবং একমাত্র সন্তান গৌতম চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে তার সংসার। কিন্তু পরবর্তীকালে জীবনে আসেন সুপ্রিয়া দেবী। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সম্পর্ক ছিল বাংলা চলচ্চিত্র মহলের অন্যতম চর্চিত অধ্যায়। 

পারিবারিক জীবনে কেমন ছিলেন উত্তম কুমার? এ নিয়ে আনন্দবাজার (পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম) কথা বলেছে তার পুত্রবধূদের সাথে। তারা বলেন, বাড়িতে ঢুকলেই উত্তম ছিলেন একেবারে অন্য এক ব্যক্তি। বাইরে কাজে না বেরোলে সারাদিন বই পড়তেন। আর হারমোনিয়াম বাজিয়ে একটার পর একটা গান করে যেতেন নিজের মতো করে। উত্তরকুমারের বড় বৌমা বলেন, আমার শোনা তার কণ্ঠে সেরা গান হল, এ মণিহার আমায় নাহি সাজে। 

উত্তম পুত্র গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের বিয়েতে সব দায়িত্ব সামলেছিলেন শ্বশুরমশাই উত্তম। পুত্রবধূ সুমনা বলেন, আমার সম্বন্ধ করে বিয়ে হয়। প্রথমে শাশুড়ি আমাকে দেখেছিলেন, তার পরে শ্বশুরমশাই আসেন। উত্তমকুমারের পরিবারে বিয়ে হচ্ছে। তিনিই শ্বশুরমশাই। ওই মাপের মানুষের সামনে যেতে প্রথমে একটু ভয় লাগত। আগে তো তাঁকে পর্দাতে দেখেছিলাম।

তিনি বলেন, উত্তম সেই ব্যক্তি যিনি হঠাৎ সামনে এলে তাকে দেখে একটু অবাক হতাম। এমন একজন নায়কের পরিবারে আমার বিয়ে হবে, ভাবতেই পারিনি কোনওদিনও। কিন্তু আমাকে তিনি আপন করে নিয়েছিলেন। ফলে শ্বশুরবাড়িতে থাকতে থাকতে ভয়টাও কমে গেল। আমাকে খুবই ভালবাসতেন। আমার যত্ন নিতেন। 

গৌরী দেবীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রেখেও জীবনের শেষ প্রায় ১৭ বছর সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গেই কাটিয়েছিলেন উত্তম কুমার। প্রেম, টানাপোড়েন, সম্পর্কের জটিলতা, তার ব্যক্তিজীবনও যেন ছিল এক অন্যরকম গল্প। কিন্ত পর্দায়? সেখানে উত্তম-সুচিত্রা জুটি আজও যেন বাঙালিকে করে তোলে নস্টালজিক। তাদের রসায়ন বাংলা সিনেমাকে দিয়েছে একের পর এক স্মরণীয় মুহূর্ত। পর্দার প্রেম যেন বাস্তবের আবেগের সঙ্গে মিশে গিয়ে তৈরি করেছিল এক অনন্য মায়াজাল।

পালিত কুকুরকে নিয়ে উত্তম কুমারের খুনসুঁটি । ছবি: আনন্দবাজার 

১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে প্রয়াত হন উত্তম কুমার। কিন্তু কিংবদন্তির কি সত্যিই মৃত্যু হয়? তার জন্মের একশো বছর পরেও উত্তরটা স্পষ্ট; উত্তম কুমার নেই, কিন্তু ‘উত্তম মোহ' আজও অমলিন।

/এসআর 

Logo