×
Logo

সারাদেশ

জয়পুরহাটে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় বিশৃঙ্খলা

ক্ষমা চাইলেন ডিসি, তদন্তের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

জয়পুরহাট করেসপনডেন্ট

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১০ পিএম

জয়পুরহাটে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় বিশৃঙ্খলা

জয়পুরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভার মূল ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় তীব্র অসন্তোষ ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। পরবর্তীতে কসটেপ দিয়ে ছবি সংযুক্ত করে অনুষ্ঠান শুরু করা হলেও, এক বক্তার বক্তব্যে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করায় আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান অতিথি জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। 

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই আলোচনা সভা হওয়ার কথা ছিল। তবে, মূল ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় প্রধান অতিথি মঞ্চে ওঠেননি এবং অনুষ্ঠান শুরু করা যায়নি।

পরে জেলা প্রশাসকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা মঞ্চে গিয়ে ব্যানার নামিয়ে জিয়াউর রহমানের ছবি সংবলিত একটি পোস্টার কসটেপ দিয়ে ব্যানারে সংযুক্ত করেন। এরপর প্রতিমন্ত্রী মঞ্চে উঠলে নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধা ঘণ্টা পর আলোচনা সভা শুরু হয়।

আলোচনা সভা চলাকালে জিয়া পরিষদের জয়পুরহাট পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান তার বক্তব্যে একাধিকবার শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ বলে সম্বোধন করলে সভাস্থলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি একেএম গোলাম মাহফুজ শুভ,  ইসলাম  উত্তেজিত হয়ে ডায়াসের দিকে তেড়ে যান এবং পরবর্তীতে ওই বক্তাকে ডায়াস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায়  জেলা ছাত্রদল, জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দলের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করেন।

জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া জানান, ইন্টারনেট থেকে ছবি সংগ্রহ করে ব্যানারটি তৈরি করা হয়েছিল। তবে এ ত্রুটির জন্য তিনি অনুষ্ঠানে সবার সামনে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

এদিকে, জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী অনুষ্ঠানস্থলের বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি ও ঘটনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পুরো বিষয়টি ইচ্ছাকৃত কি না, তা খতিয়ে দেখে জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

এছাড়া, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক তথা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছর পর এই দিবস পালন করা হচ্ছে, অথচ শহীদ জিয়ার ছবি ছাড়াই ব্যানার তৈরি করা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং প্রশাসনের ভেতরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের চক্রান্তের বহিঃপ্রকাশ।

/এএন


Logo