কুমিল্লায় তল্লাশির সময় ছিনতাইকারী সন্দেহে পুলিশসহ তিনজনকে তুলে নিয়ে গেলো কুবি শিক্ষার্থীরা
কুমিল্লা ব্যুরো
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২০ এএম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশির সময় পুলিশ পরিচয় দেওয়া তিন ব্যক্তিকে ছিনতাইকারী সন্দেহে আটক করে ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কুমিল্লা শহরের পুলিশ লাইন ও সরকারি মহিলা কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক তিনজন হলেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার এএসআই শ্যামল সাহা, কনস্টেবল হানিফ এবং পুলিশের সোর্স জাহিদ। অন্যদিকে তল্লাশির শিকার দুই শিক্ষার্থী হলেন কুবির পরিসংখ্যান বিভাগের সিয়াম ও অর্প।
শিক্ষার্থীরা জানান, টিউশন শেষে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে ওই তিনজন তাদের পথরোধ করে পকেটে হাত দিয়ে তল্লাশি চালান। নিজেদের পুলিশ দাবি করলেও তারা পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হন, যা শিক্ষার্থীদের সন্দেহের কারণ হয়।
পরিচয়পত্র না দেখিয়ে শুধু ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখানোয় শিক্ষার্থীদের সন্দেহ আরও তীব্র হয়। এরপর ভুয়া পুলিশ ও ছিনতাইকারী সন্দেহে ওই তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে জোর করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়।
অন্যদিকে এএসআই শ্যামল সাহার দাবি, শিক্ষার্থী পরিচয় পাওয়ার পর তাদের ছেড়ে দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছিল। তিনি ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীরা তাদের জোর করে বাসে তুলে নেন।
পরে ওই তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টি সমাধান করা হয়।
কুবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, পুলিশ সদস্যদের পরিচয়পত্র সঙ্গে না রাখা এবং প্রশাসনকে না জানিয়ে কাউকে এভাবে তুলে আনা উভয় পক্ষেরই ঘাটতি ছিল। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে উভয় পক্ষকেই প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তায়িন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, পুলিশের নম্বরে কল না দিয়ে বাসে করে তুলে আনার বিষয়টি কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি সকলকে সাম্প্রতিক মব কালচারের রেশ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।
/এসএম