×
Logo

সারাদেশ

গোপালগঞ্জে দুই ছেলের কেউ নিচ্ছে না বৃদ্ধা বাবার দায়িত্ব, দিন কাটছে গাছের নিচে

সিনিয়র করেসপনডেন্ট, গোপালগঞ্জ

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম

গোপালগঞ্জে দুই ছেলের কেউ নিচ্ছে না বৃদ্ধা বাবার দায়িত্ব, দিন কাটছে গাছের নিচে

জীবনের সবটুকু সুখ ও শ্রম বিলিয়ে দিয়ে ছয় সন্তানকে বড় করেছেন বৃদ্ধ হাজী শামসুল হক মোল্লা (৯৫)। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে সেই সন্তানদের নামে লিখে দিয়েছেন নিজের জমি-জায়গা। তবে শেষ পর্যন্ত কারও কাছেই আশ্রয় না পেয়ে বাধ্য হয়েই গাছের নিচে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

বৃদ্ধ শামসুল হক গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরণ গ্রামের ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে।

জানা গেছে, হাজী শামসুল হক মোল্লার দুই ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে। ছেলেদের মধ্যে বড় ছেলে আজিজুল মোল্লা পেশায় একজন ফেরিওয়ালা। ছোট ছেলে রেয়াজুল মোল্লা বাসের হেলপার।

অপরদিকে, চার মেয়ের মধ্যে মায়া বেগম, সাবিনা বেগম ও সালমা বেগমকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী।

বৃদ্ধ হাজী শামসুল হকের ছোট সন্তান কাজুলী বেগম বাদে বাকি পাঁচ সন্তান নিজেদের সংসার ও সন্তান নিয়ে ব্যস্ত।

গত কয়েক বছর আগে হাজী শামসুল হক তার জমি বিক্রি করে হজ করতে যান। তখন বাকি জমিজমা সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেন। কিন্তু বর্তমানে বিপত্নীক এই বৃদ্ধের কোনো সন্তানই তেমন খোঁজখবর রাখছে না।

শামসুল হক মোল্লা গত কয়েক দিন ধরে তার বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে ছিলেন।

কিন্তু আজ মঙ্গলবার সকালে মায়া বেগম তার বৃদ্ধ বাবাকে ভাইদের বাড়িতে নিয়ে এলে ভাই ও তাদের স্ত্রীরা মিলে হাজী শামসুল হক মোল্লাকে বাড়ি থেকে বের করে একটি গাছের নিচে রেখে দেন।

খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে শামসুল হক মোল্লার সন্তানদের নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

মায়া বেগম বলেন, আমার স্বামী অসুস্থ। তার ওপর আমার বাড়িতে আবার প্রতিবন্ধী ছোট বোন কাজুলী থাকে। যার কারণে আমার পক্ষে বাবাকে রাখা সম্ভব নয়।

শামসুল হকের মেজো মেয়ে সাবিনা বেগম বলেন, আমাদের চার বোনকে জমি বিক্রি করে বাবা মাত্র ৪ লাখ টাকা করে দিয়েছেন। দুই ভাইকে নগদ টাকাসহ ৮ কাঠা করে জমি দিয়েছেন। এখন আমরা বোনেরা কেন বাবার দেখাশোনা করবো?

এ বিষয়ে জানার জন্য শামসুল হক মোল্লার দুই ছেলে আজিজুল ও রেয়াজুলের বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয় যায়নি।

/এসআইএন

Logo