×
Logo

সারাদেশ

বাউফলে খাল থেকে উদ্ধার মরদেহের পরিচয় শনাক্ত, গুম করতে বাঁধা হয়েছিল ১৭টি ইট

বাউফল করেসপনডেন্ট

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৫ এএম

বাউফলে খাল থেকে উদ্ধার মরদেহের পরিচয় শনাক্ত, গুম করতে বাঁধা হয়েছিল ১৭টি ইট

পটুয়াখালীর বাউফলে খাল থেকে উদ্ধার হওয়া অর্ধগলিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ও নিহতের স্বজনেরা। নিহত ব্যক্তির নাম আলম ফকির (৪৭)। তিনি পেশায় একজন ভাণ্ডারি গান শিল্পী ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর উদ্ধার হওয়া এই ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে বাউফল থানায় একটি পরিকল্পিত হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে আলম ফকিরের মেয়ে রিপা বেগম বাদী হয়ে বাউফল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পৌর শহরের বাংলাবাজার জামে মসজিদ সংলগ্ন আলোকি খাল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভাণ্ডারি গান পরিবেশনকারী আলম ফকির গত ২১ অক্টোবর (বুধবার) থেকে নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার রাতে একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে রোববার সকালে কালাইয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে যান নিহতের স্বজনেরা। সেখানে পুলিশের সংগ্রহ করা আলামতের মধ্যে থাকা লুঙ্গি ও টি-শার্ট দেখে তারা নিশ্চিত করেন যে মরদেহটি আলম ফকিরের।

মামলার বাদী ও নিহতের মেয়ে রিপা বেগম জানান, তার বাবা তৃতীয় স্ত্রী ফারজানার সঙ্গে আলোকি খালসংলগ্ন দাশপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন এবং সেখান থেকেই গত বুধবার তিনি নিখোঁজ হন।

কালাইয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মনিরুজ্জামান সরদার ও সুরতহাল প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা সরওয়ার আলম জানান, আলামত ও পোশাকের মাধ্যমে পরিবার লাশ শনাক্ত করেছে। নিহত ব্যক্তিকে হত্যার পর মরদেহ চিরতরে গুম করার উদ্দেশ্যে শরীরের সঙ্গে প্রায় ১৭টি ইটভর্তি একটি প্লাস্টিকের বস্তা বেঁধে খালে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ময়নাতদন্ত শেষে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, সুরতহাল ও পারিপার্শ্বিক আলামত অনুযায়ী এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নিহতের মেয়ের দায়ের করা মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং এর সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে।

/এএ 

Logo