২ দিনের মাথায় ফের উৎপাদন বন্ধ জামালপুরের যমুনা সার কারখানার
জামালপুর করেসপনডেন্ট
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
গ্যাস সংকট কাটিয়ে দীর্ঘ আট মাস পর ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করেছিল জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড। তবে, উৎপাদন শুরুর মাত্র দুই দিনের মাথায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় আবারও বন্ধ হয়ে যায় ইউরিয়া উৎপাদন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর ৫টা থেকে কারখানার উৎপাদন বন্ধ করা হয় বলে জানিয়েছেন যমুনা সার কারখানার উৎপাদনের বিভাগীর প্রধান মো. ফজলুল হক।
ফজলুল হক জানান, নিরবিচ্ছিন্নভাবে সার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে দৈনিক ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু চাহিদামত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় ভোর থেকে কারখানায় সার উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবারও উৎপাদন শুরু হবে।
দীর্ঘদিন গ্যাস সংকটের কারণে কারখানা বন্ধ থাকার পর পুনরায় গ্যায় পেয়ে গত ৬ অক্টোবর থেকে কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে দুইদিনের মাথা ৮ অক্টোবর আবারো উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত শুক্রবার কারিগরি ত্রুটি সমধান করে পুনরায় উৎপাদনে ফিরলেও পেট্রোবাংলা ও তিতাস কর্তৃপক্ষ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিলে আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়। পুরোপুরি উৎপাদনে যেতে না পারলেও গত দুইদিন মোট এক হাজার ৬শ মেট্রিক টন সার উৎপাদন করা হয়েছে বলে জানান উৎপাদনের বিভাগীর প্রধান।
গ্যাস না থাকা ও বিভিন্ন যান্ত্রিক জটিলাতার কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ মাস বন্ধ থাকে যমুনা সার কারখানা। চলতি বছরের ১২ ই ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংকটের ফলে কারখানাটির আবারো উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পুনরায় গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে গ্যাস সংযোগ পায় যমুনা সার কারখানা।
উল্লেখ্য, যমুনা সার কারখানা দৈনিক ১৭শ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বেশ কয়েক বছর ধরে গ্যাসের চাপস্বল্পতা এবং বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বর্তমানে দৈনিক ১২শ থেকে ১৪শ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। যমুনা সার কারখানা বিসিআইসির তালিকাভুক্ত এক হাজার ৯শ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে আসছে। স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ ও কারখানাটি সচল থাকলে প্রতিমাসে প্রায় দুইশ কোটি টাকার সার উৎপাদন হয়। এতে কারখানাটির লাভ থাকে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। অন্যদিকে কারখানা বন্ধ থাকালে অন্যান্য খরচ ছাড়া শুধু প্লান্ট সচল রাখতে গ্যাস বিল দিতে হয় প্রায় ৬ কোটি টাকা।
/এএন