সাতক্ষীরায় গণপিটুনিতে যুবক নিহতের ঘটনায় মামলা
স্টাফ করেসপনডেন্ট, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
গণপিটুনির শিকার ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৪০)।
সাতক্ষীরার দেবহাটার কুলিয়া এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক ব্যক্তিকে দুই দফা গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে নিহতের বড় ভাই জলিল বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলায় এজাহার নামীয় আসামি করা হয়েছে দশজনকে। এছাড়া, অজ্ঞাত পরিচয় আসামি করা হয়েছে ২০০ থেকে ২৫০ জনকে।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইমএম শাহীন জানান, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দুই দফা গণপিটুনি দিলে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
তিনি বলেন, গ্রেফতারের স্বার্থে এখনই সব আসামির নাম পরিচয় বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে মামলায় প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী নামক এক ব্যক্তি। যিনি ফেসবুকে লাইভ করে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোক জড়ো করেছিলেন।
নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৪০) দেবহাটা উপজেলার বড় শান্তা গ্রামের মৃত শামছুর রহমানের ছেলে। প্রধান আসামী ফজলুল হক আমিনী একই উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার পূর্বে কুলিয়া এলাকায় পল্লিচিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে লোকজন জড়ো করা হয়। বিষপান করে অসুস্থ হয়ে শামীম সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে লাইভ করে জনতাকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান দেবহাটার ফজলুল হক আমিনী। এর আগে নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের একটি অডিও রেকর্ড এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা শুরু হয়।
ফজলুল হক আমিনী বলেন, শামীম বেশ কিছু দিন আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে আসছিলেন। প্রতিবেশী বা অন্য কেউ তার সঙ্গে কথা বললে ইসলামবিদ্বেষী কথাবার্তা বলতেন। তৌহিদী জনতা গণপিটুনি দিয়ে তাকে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দিয়েছে।
শামীমের ছোট ভাই সাগর সানা বলেন, তারা পাঁচ ভাই। শামীম ছিলেন চতুর্থ। তিনি মাদরাসা থেকে কামিল পাস করার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) করেছে। তার দুই সন্তান রয়েছে।
তিনি বলেন, পারিবারিক সমস্যার কারণে শামীম মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি কখনও স্বাভাবিক আচরণ করতেন, আবার কখনও অস্বাভাবিক কথাবার্তা বলতেন। চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তিনি যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে আইনের মাধ্যমে তার বিচার হতে পারতো। একটা মানুষকে এভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা হলো কেন?
সাগর আরও বলেন, নিহতের ঘটনার আগে স্ত্রীর সঙ্গে শামীমের ঝগড়া হয়। ওই সময় তাদের কথাবার্তা আশপাশের কেউ রেকর্ড করে ছড়িয়ে দেয়। অডিও শুনে লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ঝগড়ার পর শামীম বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে কুলিয়ার পল্লিচিকিৎসক সবুরের চেম্বারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। সেখানেই তাকে প্রথমে মারধর করা হয়। পরে হাসপাতালে গিয়ে আবারও মারধর করে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
/এএম