×
Logo

সারাদেশ

বাউফলে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, ছাত্রশিবিরের তিন নেতার বিরুদ্ধে সাইবার মামলা

বাউফল করেসপনডেন্ট

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম

বাউফলে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, ছাত্রশিবিরের তিন নেতার বিরুদ্ধে সাইবার মামলা

পটুয়াখালীর বাউফলে ছাত্রশিবিরের ইউনিয়ন সভাপতির বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা ও গাছ লুট করার অভিযোগের ভিডিও প্রচার করায় দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি মো. মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে ছাত্রশিবিরের তিন নেতার বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  

মামলার আসামিরা হলেন, কালাইয়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম ফাহিম, তার ভাই ছাত্রশিবিরের নেতা মো. আমিনুল ইসলাম, কালাইয়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মো. ইমরান খান এবং তাদের প্ররোচনাকারী ও ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে মো. আবুল কালাম হাওলাদার (৬৫)। মামলায় অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্র জানায়, বাউফল নিউজ টুয়েন্টিফোর নামক একটি ফেসবুক পেজে শিবির নেতার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গাছ কাটার অভিযোগ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রচার করেছিলেন দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি মো. মাসুম বিল্লাহ। একই অভিযোগে খবর বাউফল ও বাউফল টুডে নামের দুটি ফেসবুক পেজেও ভিডিও প্রচার করা হয়। ভিডিও প্রচারের ঘটনার জেরে, গত ১৭ আগস্ট আনুমানিক রাত ১০ টায় ছাত্রশিবির নেতা আমিনুল ইসলাম সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহকে মুঠোফোনে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালমন্দ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।

পরে কালাইয়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ইমরান খানের ফেসবুক আইডিতে প্রচারিত একটি ভিডিওতে সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি তরিকুল ইসলাম ফাহিম 'পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির মিথ্যা অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা অভিযোগ তুলে ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়। ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তাদের মূল উদ্দেশ্য সত্য ঘটনার সংবাদকে বাধাগ্রস্ত করা এবং আমার সম্মানহানি করা। এর আগেও এই চক্রটি ফেসবুকে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছে। ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশায় আমি আইনের শরণাপন্ন হয়েছি।

এদিকে কালাইয়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ইমরান খান বলেন, তরিকুল ইসলাম ফাহিম তার নিজস্ব সম্পত্তির গাছ কেটেছিল। বিষয়টি ছিল তাদের পারিবারিক সমস্যা। ঘটনার সময় মাসুম বিল্লাহ ঘটনাস্থলে ভিডিও ধারণ করেন এবং ফাহিমের বক্তব্য নেন। এ সময় ফাহিম ঘটনাটি পারিবারিক এবং আপসের প্রস্তুতির বিষয় জানিয়ে মাসুম বিল্লাহকে ভিডিও প্রচার না করতে অনুরোধ জানান। তখন মাসুম বিল্লাহ বিনিময়ে কিছু খরচ দাবি করেন। তবে টাকা দিতে অস্বীকার করায় তিনি শিবির নেতা উল্লেখ করে মিথ্যা অভিযোগের ভিডিওটি প্রচার করেন।

তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে তিনি একটি জিডি করেন। পরে স্থানীয় সিনিয়র সাংবাদিকরা মাসুম বিল্লাহ ও তরিকুল ইসলাম ফাহিমকে নিয়ে বসে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেন, বিষয়টি নিয়ে কোনো পক্ষ সামনে বাড়াবাড়ি করবেন না। এ ছাড়া পরবর্তীতে গাছ কাটার সেই জমির জরিপ করিয়ে দেবেন বলে মাসুম বিল্লাহ ৫ লাখ টাকা খরচ দাবি করেন। এ-সংক্রান্ত অডিও রেকর্ড আমাদের কাছে রয়েছে। ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাবেক নেতা হিসেবে আমার কাছে ভিডিও সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেন এবং বিষয়টি আমি প্রচার করি। অভিযোগ তুলে ধরা আমার নাগরিক অধিকার। সাইবার ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত মামলা মিথ্যা দাবি করে নিন্দা জানান তিনি।

এ বিষয়ে বাউফল সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার সব্যসাচী বলেন, সিআইডি সরেজমিনে তদন্ত করবে এবং আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা করবে। তদন্তে অভিযোগের মূল বিষয়গুলো উঠে আসবে। তদন্ত শেষে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিল করবেন বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, মামলা দায়েরের আগে বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ। যার জিডি নং-৯৭০, তারিখ- ১৯ আগস্ট ২০২৬। এবং গত ৪ অক্টোবর বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে পিটিশন মামলা নং- ২৬২/২৬ দায়ের করেন ভুক্তভোগী মাসুম বিল্লাহ।

/এসআর 

Logo