রাঙ্গামাটি
সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধে দিশেহারা নৃ-গোষ্ঠীর ৩০ হাজার মানুষ
খাগড়াছড়ি করেসপনডেন্ট
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৫ এএম
দেশের অন্যতম দর্শনীয় স্থান রাঙ্গামাটির সাজেকে ফের অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে। সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এক যৌথ বিবৃতিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে দ্বিতীয় দফায় এ অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। অবরোধের কারণে পর্যটন কেন্দ্র সাজেক সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় রিসোর্ট-কটেজ ও খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও তাদের পরিষেবা বন্ধ রেখেছে।
এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাজেকের লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জাতিগোষ্ঠীর অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় হাটের দিনেও স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে দেখা গেছে সুনসান নীরবতা। পরিবহন সংকটে জুমের উৎপাদিত ফসল হাটে নিতে পারছেন না জুমচাষীরা। স্থানীয়রা বলছেন অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে সাজেকে খাদ্যসংকট দেখা দেয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। দ্রুত সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন মহল।
এদিন অবরোধের শুরুতে রাঙ্গামাটির বাঘাইহাটের ১০ নম্বর এলাকা, গঙ্গারাম ব্রিজ ও মাচালংয়ের ১৪ কিলো নামক জায়গাসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার, বাঁশ ও গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে পিকেটিং করতে দেখা গেছে। যানবাহন ও দোকানপাট বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন সাজেক এবং আশপাশের এলাকার স্থানীয় অধিবাসীরা।
মূলত, পাহাড়ের সশস্ত্র দুই আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ (মূল) ও জেএসএস (সন্তু) গ্রুপের আধিপত্যের বিস্তারের লড়াইয়ে সাজেকের বিভিন্ন কয়েক দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ হন এক ত্রিপুরা শিশু শিক্ষার্থী। এরপর থেকেই চলমান অস্থিরতা শুরু হয়।
এর আগে, গত ১১ অক্টোবর সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র সদস্যদের অবস্থান ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার অভিযোগ তুলে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ শুরু করেন সংগঠন দুটির (গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী এসোসিয়েশন) নেতাকর্মীরা। ওই দিন বিকেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হলে অবরোধ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও দাবিগুলো বাস্তবায়িত না হওয়ায় আবারও অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে জানায় সংগঠন দু'টির পক্ষ থেকে।
/এমএইচআর