×
Logo

সারাদেশ

ছেলেদের খেজুর গাছ কাটা শিখাতি পারছিনে, আক্ষেপ গাছি ইয়াকুব আলির

ঝিনাইদহ করেসপনডেন্ট

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৩ পিএম

ছেলেদের খেজুর গাছ কাটা শিখাতি পারছিনে, আক্ষেপ গাছি ইয়াকুব আলির

গাছ কাটার সরঞ্জাম হাতে দল বেঁধে গন্তব্যের পথে গাছিরা। সবার লক্ষ্য খেজুরগাছ প্রস্তুত করা। সারি সারি খেজুরগাছ কাটার ব্যস্ততা জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। অক্টোবরের শুরু থেকেই এমন দৃশ্য চোখে পড়ছে ঝিনাইদহে। তবে বংশপরম্পরায় চলে আসা এই পেশায় নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করতে না পারার আক্ষেপও রয়েছে গাছিদের। তেমনই একজন গাছি ইয়াকুব আলী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ছেলেদের খেজুর গাছ কাটা শিখাতি পারছিনে। যে গাছটায় ওঠবে, কাটপে, সেরকম সিস্টেম নেই। আমরা শেষ হয়ে গিলি সেরকম গাছ উঠোনোর সিস্টেম আর থাকপে না।’ 

১২ বছর ধরে খেজুর গাছ কাটেন গাছি মিন্টু মন্ডল। তিনি বলেন, আমার ভালো লাগে, মোটামুটি দেড়শ গাছ কাটি, সিজনজুড়ে একটি গাছ থেকে ৫-৬ কেজি গুড় পাওয়া যায়। এমনকি আরও ভালো গাছ হলে ১০ কেজিরও বেশি গুড় পাওয়া যায়। দাদা- বাবাদের পেশা থেকেই এই কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

প্রায় ৪ হাজার বছরের ঐতিহ্য ঝিনাইদহের রস ও গুড়ের। এখানকার এক হাড়ি রস ২৫০ টাকা, গুড় ১ কেজি ৩৫০ ও পাটালি বিক্রি হয় ৪৫০ টাকা দরে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ফুড ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম বলেন, খেজুরের রস সংগ্রহের সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে গাছিদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অসুস্থ বা সংক্রামক রোগে আক্রান্ত অবস্থায় রস সংগ্রহ না করার পাশাপাশি শরীরে কোনো ক্ষত থাকলে তা ঢেকে রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

খামারবাড়ির উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, কেউ হাইড্রোজ ব্যবহার বা ভেজাল মেশানোর চেষ্টা করলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জেলার কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, বর্তমানে ঝিনাইদহে ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ৯৬৬টি খেজুর গাছ রয়েছে । যা গতবছরের তুলনায় ৬ হাজার টি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর রস উৎপাদন হয়েছিল ১১ লাখ ১১ হাজার লিটার । আর গুড় উৎপাদন হয়েছিল ৫৫৪ মেট্রিক টন ।

/এসআইএন

Logo