পূর্ব শত্রুতা ও জমি নিয়ে বিরোধে তেঁতুলিয়ায় আগাছানাশক প্রয়োগে ধান নষ্টের অভিযোগ
পঞ্চগড় করেসপনডেন্ট
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় পূর্ব শত্রুতা ও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আগাছানাশক প্রয়োগ করে কৃষকের ৫৪ শতক জমির ধানক্ষেত নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর এ ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী আশরাফ আলী ও আবুল হোসেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের চিমনজোত গ্রামের বাসিন্দা। অপরদিকে অভিযুক্তরা একই ইউনিয়নের দক্ষিণ দর্জিপাড়ার বাসিন্দা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর চিমনজোত এলাকার হাসিবুল ইসলাম, হরমুজ আলী ও তাদের বাবা আব্দুল হক আবুল হোসেনের ভোগদখলে থাকা ৫৪ শতক জমির ধানখেতে আগাছানাশক ‘রাউন্ডআপ’ প্রয়োগ করেন। পরদিন সকালে জমিতে গিয়ে ফসল নষ্ট হওয়ার বিষয়টি দেখতে পান তারা।
পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইউপি সদস্য হারুন অর রশিদকে বিষয়টি দেখান। আগাছানাশক কীটনাশক প্রয়োগের পর থেকে তার কষ্টার্জিত মৌসুমি ধানের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানান। এদিকে স্থানীয়রাও অভিযুক্তদের ঘটনার দিন সন্ধ্যার আগে অভিযুক্তদের ওই এলাকায় দেখতে পান বলে জানান৷
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, গত ৮-৯ মাস ধরে দর্জিপাড়া মৌজার জমি নিয়ে হাসিবুল, হরমুজ ও তাদের বাবা আব্দুল হকের সঙ্গে বিরোধ চলছিল ভুক্তভোগীর। বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে বিচারপ্রার্থী হন। কিন্তু সালিশি সিদ্ধান্তের পরও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি এবং তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান তারা৷
ভুক্তভোগী আবুল হোসেন বলেন, আমি ধার-দেনা করে জমিতে ধান চাষ করেছি৷ কিন্তু হঠাৎ তার রাতের আধারে আমার ধানখেতে কীটনাশক দিয়ে নষ্ট করেছে। আমার যে জমি নিয়ে বিরোধ সেটাতেও দিয়েছে আবার যে জমি নিয়ে বিরোধ নেই সেই জমির ধানক্ষেতেও নষ্ট করেছে৷ আমি তাদের বিচার চাই ৷
তবে, এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের বাড়ি ও মুঠোফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি৷ তবে অভুক্ত হাসিবুল ও হরমুজের মা বলেন, এই কাজ আমরা করিনি। তারাই নষ্ট করে এখন আমাদের উপর দোষ চাপাচ্ছে।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপির সদস্য হারুন -অর রশিদ ধানক্ষেত নষ্টের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সে সময় স্থানীয় অনেক লোক উপস্থিত ছিলেন৷
তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান জানান, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হবে।
/এএন