রাতে পুলিশ সদস্যদের একা চলা নিয়ে দেয়া নির্দেশনার ব্যাখ্যা দিল খুলনা জেলা পুলিশ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩১ এএম
সম্প্রতি, পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ শাহ আলম, দায়িত্ব পালন শেষে, গভীর রাতে, সাদা পোশাকে রূপসা ফেরি পার হয়ে রিকশাযোগে খুলনা মহানগরীর পুলিশ ক্লাবে যাওয়ার পথে মহানগরীর কলেজিয়েট স্কুলের নিকট তিনজন ছিনতাইকারীর হামলার শিকার হন। এ সময় ছিনতাইকারীরা তার মানিব্যাগ ও ২টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে একজন ছিনতাইকারী চাপাতি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপায়। আত্মরক্ষার্থে, হাত দিয়ে আঘাত প্রতিহত করতে গিয়ে তার উভয় হাত গুরুতরভাবে জখম হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে তাকে এক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে, উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে পুলিশ সুপার, খুলনা, ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে তাকে ঢাকার রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
এরপর অবস্থার অবনতি হলে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায়, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের স্বল্পতার জেরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার উভয় হাতে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমানে, তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তবে তার দুই হাতের কয়েকটি আঙুল গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সেগুলোর কর্মক্ষমতা স্থায়ীভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্ব পালন শেষে, বিশেষত, গভীর রাতে, সাদা পোশাকে চলাচলের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার বিষয়ে সতর্ক ও সচেতন করার লক্ষ্যে গত শুক্রবার সকালে পুলিশ সুপার, খুলনার স্বাক্ষরে একটি আন্তবিভাগীয় নির্দেশনামূলক অফিস আদেশ জারি করা হয়।
আদেশটি, শুধুমাত্র, খুলনা জেলা পুলিশের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছিল। এটি কোনোভাবেই খুলনা জেলা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম সীমিত করা কিংবা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে নেতিবাচক কোনো বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে জারি করা হয়নি।
উল্লেখ্য, খুলনা জেলা পুলিশ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। জেলার প্রতিটি থানায় নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি চেকপোস্ট স্থাপন, অপরাধ দমনে অভিযান পরিচালনা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
/এআই