কলেজ ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব প্রতিবেশীর
সাতক্ষীরায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে বাবাকে মারধর, ৩ দিন পর মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু
স্টাফ করেসপনডেন্ট, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
সাতক্ষীরার তালা থানায় পুলিশ গাফিলতিতে এক কলেজ ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায়, জালালপুর ইউনিয়নের, ধুলান্ডা গ্রামে, নিজ বাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় ওই কলেজ ছাত্রীর মরদেহ।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, মেয়েকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী রকি শেখ (২৪), শোয়েব মালী (১৮) ও ইমন শেখ (২২) কলেজে যাতায়াতের পথে তাদের মেয়েকে কুপ্রস্তাব দিতো। এসব নিয়ে আমজেত শেখের মেয়ে আকলিমা খাতুনের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয় ওই কলেজ ছাত্রীর।
এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায়, গেল ২ অক্টোবর (শুক্রবার) দুপুরে, কলেজ ছাত্রীর বাবা, লিটন শেখকে, ধরে নিয়ে প্রতিবেশী আমজেত শেখ, তার বাড়ির উঠানে থাকা বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে বেধড়ক মারপিট করে।
ওই সময়ে, মারপিটে অংশগ্রহণ করে কলেজ ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়া রকি শেখ, শোয়েব মালী এবং ইমন শেখ। সাথে ছিলেন, আমজেত শেখ, ইমরান শেখ এবং আকলিমা খাতুন। বাবাকে ছাড়াতে গেলে মেয়ে ও তার মাকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার দিনই, তালা থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দীকির নিকট হাজির হয়ে মামলা দাখিল করেন লিটন শেখ।
লিটন শেখ জানান, খুঁটিতে বেঁধে মারপিটের ঘটনায়, থানায় এজাহার দিলেও, থানা পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে আমজেদ শেখসহ অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে হুমকি দিতে থাকে।
এরই মধ্যে সোমবার (৫ অক্টোবর) শুক্রবার সন্ধ্যার পূর্বে লিটন শেখের মেয়েকে ঘরের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষনা করে।
মেয়ের বাবার দাবি, 'ওই সময়ে কেউ বাড়িতে ছিল না। মেয়ে একা ছিল। থানা পুলিশ ব্যবস্থা নিলে আমার মেয়ের এই পরিণতি হতো না। আমার মেয়েকে হত্যা করে ঝুঁলিয়ে রাখা হয়েছে। আমি অপরাধীদের শাস্তি চাই।'
এদিকে, নিহত কলেজ ছাত্রীর মামা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ঝুলন্ত অবস্থায় থাকাকালীন, আমার ভাগ্নির পা মাটিতে ছিল। গলায় রশি দিলে যেভাবে দাগ পড়ে যাওয়ার কথা, তেমন কোনো দাগ নেই। এছাড়াও তার মোবাইলটিও ঘরের মধ্যে পাওয়া যায়নি। তাকে মোবাইলে কল দিলে রিং হচ্ছে কিন্তু কেউ ধরছে না। হত্যার পর তাকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তালা থানা কোন পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে আমার ভাগ্নির জীবনটা চলে গেল। পুলিশ যদি পদক্ষেপ নিতো তাহলে প্রাণটা যেতো না।
এসব অভিযোগের বিষয়ে তালা থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিকীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও মুঠোফোনে সাড়া দেননি।
তালা সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার আক্তারুল ইসলাম বলেন, মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার প্রশ্নে তিনি বলেন, ঠিক তেমনটি নয়। পুলিশ খোঁজখবর নিচ্ছিল এর মধ্যেই এমন ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গতকাল রাতেই আত্নহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে থানায় একটি মামলা হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
সাতক্ষীরা মানবাধিকার কর্মী মাধব দত্ত বলেন, আইনী পদক্ষেপ বা নিরাপত্তার জন্য মেয়েটি থানা পুলিশে লিখিত অভিযোগ দিল। তবুও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হলো না। মৃত্যুর পর একটি আত্নহত্যা প্ররোচনা মামলা গ্রহণ করা হলো। যেটিকে আত্নহত্যা বলা হচ্ছে, সেটি আদতে আত্নহত্যা, না ভিন্ন ঘটনা, সেটিও তদন্ত প্রয়োজন। এখানে বোঝাই যাচ্ছে, তালা থানা পুলিশ দায়িত্ব কর্তব্যে অবহেলা করেছে। যার ফলশ্রুতিকে একটি কলেজছাত্রীর প্রাণ চলে গেল। এসবের সুনিদৃষ্ট তদন্ত হওয়া দরকার এবং জড়িত বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার, যাতে এমন ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
/এআই