রংপুরে শিক্ষা অফিস থেকে ৪ বস্তা ফাইল পাচারের সময় এলাকাবাসীর হাতে আটক
রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
রংপুরের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা (মাউশি) আঞ্চলিক উপ-পরিচালকের কার্যালয় থেকে দিনের আলোয় ৪ বস্তা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ফাইলপত্র ও নথিপত্র পাচারের সময় হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনা জানাজানি হলে শিক্ষা প্রশাসনসহ পুরো জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে রংপুর বিভাগীয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অফিসের পেছনের সড়কে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় গোপনে চারটি মুখ সেলাই করা বড় বস্তা তোলা হচ্ছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে আশপাশের সচেতন জনতা দ্রুত এগিয়ে এসে অটোরিকশাটি ঘেরাও করে বস্তাগুলো আটকে দেন। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
এ সময় ঘটনাস্থলে অফিসের কর্মচারী আবু তালেব এবং কার্যালয়ের গাড়িচালক মোহাম্মদ জাহিদ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিতেই বস্তাগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এমনকি কর্মচারী ও চালক দাবি করেন, স্বয়ং বিভাগীয় পরিচালকের সরাসরি নির্দেশেই তারা এসব বস্তা নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দিতে এসেছিলেন।
এ ঘটনায় অভিযোগের সরাসরি তীর উঠেছে বিভাগীয় উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান পাইকার এবং পরিচালক মাজেদ আলীর বিরুদ্ধে। যদিও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে ‘চুরির অপচেষ্টা’ বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন, তবে প্রধান স্টোররুম সম্পূর্ণ তালাবদ্ধ ও অক্ষত থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ভেতরে থাকা গোপন ও স্পর্শকাতর সরকারি নথি বস্তাবন্দি হয়ে বাইরে এলো—তার কোনো সদুত্তর বা যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা তারা দিতে পারেননি।
গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গায়েব করার এই অপচেষ্টায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের অভিযোগ, দুর্নীতির তথ্য গোপন বা অডিট আপত্তির প্রমাণ নষ্ট করতেই পরিকল্পিতভাবে এসব নথি সরিয়ে ফেলা হচ্ছিল। এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নেপথ্যে থাকা রাঘববোয়ালদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
/এএ