×
Logo

সারাদেশ

ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন, অর্থদণ্ড ও গ্রেফতারি পরোয়ানা

ফরিদপুর করেসপনডেন্ট

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম

ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন, অর্থদণ্ড ও গ্রেফতারি পরোয়ানা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ১৫ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ করে চলন্ত মাইক্রোবাসে পালাক্রমে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই তরুণকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—ভাঙ্গা পৌরসভার হোগলাকান্দি মহল্লার মোহন বিশ্বাস (২৬) এবং একই এলাকার তায়েব মাতুব্বর (২৭)। রায় ঘোষণার সময় উভয় আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার নির্দেশ দেন বিচারক।

আদালতের নথি ও রায় সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের অপরাধে দুই আসামির প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে; অনাদায়ে আরও তিন বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ ছাড়া অপহরণের দায়ে প্রত্যেককে পৃথকভাবে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। আসামিরা গ্রেফতার হলে দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ৮ আগস্ট বিকেলে ভাঙ্গা উপজেলায় বাড়ির পাশ থেকে ওই কিশোরীকে মুখে চেতনানাশকযুক্ত রুমাল চেপে একটি মাইক্রোবাসে জোরপূর্বক তুলে নেয় মোহন ও তায়েব। এরপর চলন্ত মাইক্রোবাসের ভেতরে ভাঙ্গা গোলচত্বর ও মুনসুরাবাদ এলাকার মহাসড়কে ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তারা। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে অসুস্থ অবস্থায় ভুক্তভোগী কিশোরীকে তার বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় আসামিরা।

এ ঘটনার পরদিন ৯ আগস্ট ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মোহন ও তায়েবকে আসামি করে ভাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির দীর্ঘ তদন্ত শেষে ভাঙ্গা থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) বিকাশ মণ্ডল ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এ চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, এ রায়ের মধ্য দিয়ে সমাজে এই সুস্পষ্ট বার্তা পৌঁছাবে যে, যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট।

/এএ

Logo