গাজীপুরে জরাজীর্ণ ঘরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে যুবকের মৃত্যু
গাজীপুর করেসপনডেন্ট
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২০ পিএম
গাজীপুরের শ্রীপুরে বিরোধপূর্ণ জমির জরাজীর্ণ ঘরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে দেলোয়ার হোসেন নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
রোববার (৪অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে, শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের সাঁটিয়াবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম।
নিহত মো. দেলোয়ার হোসেন (১৮) জামালপুর জেলায় বকশিগঞ্জ উপজেলার কামালপুর গ্রামের মো. বধূ মিয়ার ছেলে। তিনি শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের সাঁটিয়া বাড়ি গ্রামের খাসপাড়া এলাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন।
নিহতের বাবা বদু বুধু মিয়া বলেন, যে ঘরে আগুনে পুড়ে ছেলের মৃত্যু হয়েছে সেখানে কিভাবে গেলো বলতে পারবো না। আমার ছেলের শরীর আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। প্রথমে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরবর্তীতে ছেলের অবস্থা খারাপ হলে ঢাকায় নিয়ে ভর্তি করি। সেখানে ছেলের মৃত্যু হয়েছে।
জমির মালিক হুরমত আলী শেখ বলেন, 'জমি নিয়ে দীর্ঘ বছর যাবৎ চাচাতো ভাই ফাইজুদ্দিনদের সঙ্গে বিরোধ চলছে৷ একটি টিন শেডের ঘর নির্মাণ করে জমি পাহাড়া দেই। প্রতিদিন রাত ১০টার দিকে এসে এই ঘরে এসে ঘুমাই। গতকাল শনিবার রাতে রাজেন্দ্রপুর বাজারে দুধ বিক্রি করছিলাম। হঠাৎ করে একজন ফোন করে জানায় তোমার ঘরে আগুন লাগছে। দৌড়ে ঘরের পাশে গিয়ে দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। ঘরের ভেতর একজনের চিৎকার শুনে শতশত মানুষ জড়ো হয়ে তাকে উদ্ধার করে। এসময় সে মারাত্মক ভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।'
তিনি আরও জানান, এই ছেলেকে আমি চিনি না। সে কেন এখানে আসছে। কিভাবে আগুন লাগছে বলতে পারবো না। ঘরে পেট্রোল-কেরোসিনের গন্ধ। ধারণা করা হচ্ছে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, 'খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশের নির্দেশনায় মরদেহের ময়না তদন্ত চলমান। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়ায়ধীন। কিভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে। পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে কিনা এ বিষয়ে তদন্ত চলমান। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
/এমএইচআর