×
Logo

সারাদেশ

ফরিদপুর-মাদারীপুর নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ, দর্শনার্থীদের ঢল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৮ পিএম

ফরিদপুর-মাদারীপুর নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ, দর্শনার্থীদের ঢল

বৈঠার ছন্দ, মাঝি-মাল্লাদের হইহুল্লোড় আর দর্শকদের করতালিতে উৎসবমুখর হয়ে উঠে ফরিদপুর-মাদারীপুরের দুই এলাকায় নদীর পাড়। দুই জেলার কুমার নদে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচকে ঘিরে ছিল উৎসবের আমেজ। পানির বুক চিরে ছুটে চলা নৌকার দৃশ্য ফিরিয়ে আনে বাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যের আবহ। বৈঠার ছন্দে মেতে ওঠে হাজারও দর্শনার্থীরা। 

গতকাল শনিবার ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে কুমার নদে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বার্ষিক নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলা।
মাদারীপুর কুমার নদে নৌকাবাইচ
বিকেল সাড়ে চারটায় শুরু হয় এ নৌকাবাইচ। তবে সকাল থেকেই আয়োজনকে ঘিরে ছিল উৎসব আমেজ। এরপর বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নদীর দুই পাড়ে বাড়তে থাকে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিড়। গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন দেখতে দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে ছুটে আসেন।

তবে নৌকাবাইচ শুরু হতেই বদলে যায় কুমার নদের দৃশ্য। পানির বুক চিরে ছুটে চলে একের পর এক প্রতিযোগিতার নৌকা। মাঝিদের তালে তালে বৈঠার আঘাতে নদীর পানি যেন ছন্দে নেচে ওঠে। নদীর পাড় থেকে দর্শকদের করতালি, হর্ষধ্বনি ও উৎসাহে আরও জমে ওঠে প্রতিযোগিতা।
নদের পাশে দর্শনার্থীদের ঢল
শুধু নদীর পাড়েই নয়, ছোট-বড় নৌকা ও ট্রলার নিয়ে নদীতে নেমেও আনন্দে মেতে ওঠেন কিশোর-তরুণরা। বক্সে গান বাজিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় তাদের। সব মিলিয়ে রাজাপুরের কুমার নদ পরিণত হয় এক প্রাণের উৎসবে।

এদিকে, নৌকাবাইচে প্রথম হয় মুকসুদপুরের গবিন্দপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাদূর্গাপুর গ্রামের শফিকের ‘বাংলার টাইগার’ নৌকা। দ্বিতীয় হয় বোয়ালমারী সদর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের সত্তার ফকিরের ‘ভাই ভাই জলপরী’। এবং তৃতীয় হয় কাশিয়ানী উপজেলার হুগলাকান্দীর আড়পাড়া গ্রামের ওসমান শেখের ‘সোনার তোরী’।

অন্যদিকে, মাদারীপুর সদর উপজেলার পূর্ব গাছবাড়িয়ায় কুমার নদে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। শনিবার বিকেলে পূর্ব গাছবাড়িয়া কুমার নদে প্রভাতী সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ১৩টি নৌকা।
ফরিদপুরে  নৌকাবাইচ
নৌকাবাইচ ঘিরে নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। বৈঠার ছন্দ, প্রতিযোগীদের হই-হুল্লোড় আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা পরিণত হয় উৎসবের কেন্দ্রে।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে ‘ফলিয়া এন্টারপ্রাইজ’। দ্বিতীয় স্থান অর্জন ‘আমগ্রাম এক্সপ্রেস’ ও তৃতীয় স্থান অর্জন ‘নিরঞ্জন’।

আয়োজকেরা জানায়, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই প্রতিবছর এ নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। নৌকাবাইচকে ঘিরে বসে গ্রামীণ মেলাও। ফলে একদিনের জন্য রাজাপুরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

/এনজেএস/এসআইএন

Logo