রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় গাইবান্ধার বীরাঙ্গনা ফুলমতির
গাইবান্ধা করেসপনডেন্ট
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৮ এএম
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধাহত নারী মুক্তিযোদ্ধা রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দিয়ে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে সাদুল্লাপুরের উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হক রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করেন।
এ সময় সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) হাসান কবীরসহ প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী নিজ বাড়ির উঠানে পূর্বসূরিদের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর নিজ বাড়িতে মারা যান ফুলমতি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। প্রায় দুই বছর আগে ব্রেন স্ট্রোকে তাঁর ডান হাত-পা অবশ হয়ে যায়। এরপর থেকে প্রায় পুরোপুরি শয্যাশায়ী ছিলেন। মৃত্যুকালে চার ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন এই বীরাঙ্গনা।
লেখক ও গবেষক জহুরুল কাইয়ুম সম্পাদিত হৃদয়ে একাত্তর-এর তথ্য অনুযায়ী, ফুলমতি রানি নামে পরিচিত এই বীরাঙ্গনার জন্ম সাদুল্লাপুরের জামালপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা তাঁকে ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালায়। স্বামীর বুকে রাইফেল ঠেকিয়ে তাঁর সামনেই ফুলমতির ওপর নির্যাতন চালানোর ঘটনাও বইটিতে উল্লেখ রয়েছে।
স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর ২০১৬ সালের মার্চে বীরাঙ্গনা ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পান ফুলমতি। ২০১৭ সালে তাঁর জন্য নির্মাণ করা হয় চার কক্ষের ‘বীর নিবাস’। স্বামী কুশিরাম সরকার ফসিয়া ১৯৮৮ সালে মারা যাওয়ার পর পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে সংগ্রামী জীবন কাটান তিনি। অভাব-অনটনের মধ্যেও শেষ দিন পর্যন্ত কারও কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাতেননি এই আত্মমর্যাদাশীল নারী।
/এসআর