×
Logo

সারাদেশ

মেয়েদের সাথে অবাধ বিচরণসহ নানা অভিযোগে সাথী পদ বাতিল হয় আম্মারের

রাজশাহী করেসপনডেন্ট

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৯ পিএম

মেয়েদের সাথে অবাধ বিচরণসহ নানা অভিযোগে সাথী পদ বাতিল হয় আম্মারের

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে মেয়েদের সাথে অবাধ বিচরণ, নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন এবং সম্পদের তছরুপ, সংগঠনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য পরিপন্থি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে সাথী পদ বাতিল করেছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির। 

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের এ সকল ঘটনা ঘটেছে। কিছু অনিয়মের অভিযোগে ইসলামি ছাত্র শিবির তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে। রাকসু নির্বাচনে শিবিরের 'ডামি প্যানেল' হিসেবে আলোচিত হওয়া 'আধিপত্য বিরোধী ঐক্য' প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন আম্মার। ওই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেহেদী সজীব পরে শাখা শিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এবার শিবিরের সাথী হিসেবে আম্মারের নাম সামনে আসায় ডামি প্যানেলের বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।

শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল গত ৩১ জুলাই সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক চিঠিতে আম্মারের সাথী পদ বাতিলের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

নানান অভিযোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় সালাউদ্দিন আম্মারের সাথী পদ মুলতবি করার সিদ্ধান্ত হয়। পরে উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সেপ্টেম্বরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় তার সাথী পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এক চিঠিতে বলা হয়, আম্মারের কর্মকাণ্ড এবং ক্ষেত্রবিশেষে ফৌজদারি অপরাধে জড়িত হওয়ার কারণে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে সংগঠনটি মনে করছে। তার অনলাইন ও অফলাইন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো মন্তব্য কিংবা প্রতিক্রিয়া না দেখাতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। শুধু রাকসুর নির্বাচিত দায়িত্বশীলদের তার সঙ্গে দাফতরিক যোগাযোগ রাখার কথা বলা হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তৎকালীন সভাপতি ও বর্তমানে রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদের সই করা এক চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।

ওই চিঠিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও রিপোর্টের মাধ্যমে বিষয়টি শাখা শিবিরের নজরে আসে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্ল্যাটফর্‌ম থেকে আম্মারের বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলনের কয়েকটি অভিযোগও সংগঠনটির কাছে আসে।

অভিযোগগুলো নিয়ে ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি শাখার মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় আলোচনা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আম্মারের সাথী পদ মুলতবি করার সিদ্ধান্ত হয় বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

/এসআর 

Logo