দেশ ত্যাগের জন্য পাবনা থেকে কুড়িগ্রামে এসে পুলিশের হাতে আটক ৩ কিশোরী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
পাবনা থেকে কুড়িগ্রামের সীমান্ত দিয়ে দেশ ত্যাগের উদ্দেশ্যে এসে পুলিশের হাতে আটক হয়েছে তিন কিশোরী। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে, কুড়িগ্রাম পৌর এলাকা থেকে তাদের আটক করে কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশ। পরে আটককৃতদের পাবনা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়।
আটককৃত কিশোরীদের একজনের বয়স ১৪ বছর। আরেকজনের বয়স ১২ বছর এবং তৃতীয় কিশোরীর বয়সও ১২ বছর।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটককৃতদের সকলেই চর আশুতোষপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। এদের মধ্যে দু’জন সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো বোন।
আটককৃত কিশোরীদের মধ্যে একজনের বাবা ফার্নিচার মিস্ত্রী আর অপরজনের বাবা ওয়ার্কশপের মিস্ত্রি। তিনজনের মধ্যে দু'জনেই দেখতে সুন্দর।
অপরদিকে, তৃতীয় কিশোরীর গায়ের রং কালো এবং চোখের সমস্যা থাকায় চশমা পরতে হয়। আর এই বিষয়টি তার জন্য কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়ায়। তার বাবা-মা প্রায়ই সময় তার গায়ের রং এবং চোখের সমস্যা নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে থাকে। শিশু বয়সে বাবা-মা'র এই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য সহজ ভাবে নিতে পারেনি নাবালিকা কিশোরী। দিন দিন তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। জীবন থেকে মুক্তি পেতে দেশ ও গ্রাম ছাড়া হতে চায়। সে মাঝেমধ্যে বিটিএস-এর অনুষ্ঠান দেখে বিটিএস’র ভক্ত হয়ে যায়। বেশ কয়েক দিন ধরে, ওই কিশোরী সুযোগ খুঁজতে থাকে। এরপর সে কুড়িগ্রামের সীমান্ত দিয়ে দেশ ত্যাগের পরিকল্পনা করে। তার এই পরিকল্পনার কথা সহপাঠী দু'জনকে জানায়। তারাও বান্ধুবির সাথে সীমান্ত অতিক্রম করার সিদ্ধান্ত নেয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর), সকাল দশটার দিকে তিনজনই, তাদের বিদ্যালয়ে একত্রিত হয়। বাড়ি থেকে আসার সময় তৃতীয় কিশোরী, তার পিতার জমানো এক লাখ টাকা সাথে নেয়।
প্ল্যান মতো, বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তিনজনই ক্লাস 'না' করে অটো রিক্সায় করে অনন্ত মোড় এলাকায় নেমে আরেকটি অটো রিক্সায় করে পাবনা বাস টার্মিনালে আসে। সেখানে তারা প্রথমে নাটোরের বাসে ওঠে এবং নাটোরে নামে।
এরপর নাটোর হতে পুনরায় রংপুরের বাসে উঠে। রংপুরে নেমে কুড়িগ্রামের বাস ধরে তারা। সন্ধ্যার সময় কুড়িগ্রাম বাস টার্মিনালে নেমে পড়ে তারা। অচেনা শহরে রাত্রি যাপনের চিন্তায় হোটেল অথবা বাসা খুঁজতে থাকে তারা। এসময় কুড়িগ্রাম সদর থানার এসআই তাজ-এর স্ত্রী তিনজন অচেনা কিশোরীকে দেখে এবং কৌতূহল বশত জিজ্ঞাসা করে সন্দেহ হলে তাদেরকে তিনি তার বাড়িতে আশ্রয় দেন। তিনজন কিশোরীকে রাতের খাবার খেয়ে বিশ্রামের ব্যবস্থা করেন তিনি। বিষয়টি তার স্বামী এসআই তাজকে জানান।
পরে তারা কৌশলে তিনজন কিশোরীর নিকট হতে তাদের পিতা-মাতার মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করেন এবং তাদের পরিবারে খবর দেন এসআই তাজ। তিনি কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশকেও বিষয়টি অবহিত করেন।
একই সাথে, একই স্কুলের, একই গ্রামের, তিনজন কিশোরীর নিখোঁজের বিষয়ে পৃথক তিনটি সাধারণ ডায়েরি করা হয় পাবনা থানায়। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পাবনা জেলা পুলিশ হন্যে হয়ে তিন কিশোরীর অনুসন্ধান করতে থাকে। পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম পুলিশ পাবনা সদর থানায় অবগত করে এবং রাতেই এসআই রায়হানের তিন কিশোরীকে তার নিকট হস্তান্তর করে কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশ।
এই বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তিন কিশোরীকে নিরাপদে পাবনা সদর থানার পুলিশের নিকট বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
/এআই