×
Logo

সারাদেশ

১১৪ কোটি ব্যয়ে খুলনায় শিশু হাসপাতাল, দুই বছর পরও চালু হয়নি চিকিৎসাসেবা

শেখ আল- এহসান, খুলনা

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৯ পিএম

১১৪ কোটি ব্যয়ে খুলনায় শিশু হাসপাতাল, দুই বছর পরও চালু হয়নি চিকিৎসাসেবা

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় ১১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল। নানা রকম জটিলতার মুখে নির্মাণ কাজ শেষ করার দুই বছর পর ভবনটি বুঝে নেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর। তবে এখনও হাসপাতালের বেশ কিছু কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। ফলে শুরু হয়নি চিকিৎসাসেবাও। 

জানা গেছে, ২০১৯ সালে খুলনায় বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। সোনাডাঙ্গা-বাইপাস সংযোগ সড়কের পাশে ময়ূরি আবাসিক এলাকার কাছে হাসপাতালের জন্য প্রায় ৪ দশমিক ৮২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। সেখানে ১০ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে ৫ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

২০২৩ সালের জুনে ভবন নির্মাণ শেষ করার কথা ছিল। পরে প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়। ছয়টি টেন্ডারের মাধ্যমে প্রায় ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। 

গণপূর্ত বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও ভবনটি বুঝে নেওয়া নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। এভাবেই কেটে যায় প্রায় দুই বছর। পরে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চলতি বছরের জুনে ভবনটি বুঝে নেয় খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দফতর।

তবে, ভবন বুঝে নেওয়ার পরও হাসপাতাল এলাকায় নেই সীমানাপ্রাচীর ও গেট। স্থাপন করা যন্ত্রপাতি ও ফিটিংসে ধরেছে মরিচা। রোগী কিংবা মরদেহ ওঠানামার জন্যও নেই কোনো র‌্যাম্প।

গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান জানান, মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী প্রকল্পের বাকি কাজ পরবর্তী পর্যায়ের প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। তবে সীমানা প্রাচীর, গেট এবং চিকিৎসক-নার্সদের কোয়ার্টারসহ অন্যান্য কাজের জন্য পঞ্চম অপারেশন প্ল্যানে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তিু সেটা অনুমোদন না পাওয়ায় সেই কাজগুলো বাস্তবায়ন করা যায়নি বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানায়, গণপূর্ত বিভাগ সব কাজ শেষ করে দেওয়ার শর্তে ভবনটি বুঝে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বহিঃর্বিভাগের মাধ্যমে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। চিকিৎসক ও জনবল চেয়ে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। 

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দফতরের সহকারী পরিচালক ডা. এসএম শাহরিয়ার জানায়, গণপূর্ত বিভাগের লিখিতভাবে অসুবিধা মেনে নেওয়ার পর হাসপাতালটি বুঝে নেওয়া হয়েছে। দ্রুত হাসপাতালটির উদ্বোধন হবে বলে আশা করছেন তারা।

খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন জানায়, হাসপাতালের লিফট ও টাইলসের কাজসহ বিভিন্ন কাজ এখনও চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর গণপূর্ত বিভাগ ঠিকাদারের মাধ্যমে এসব কাজ শেষ করার চেষ্টা করছে।

এদিকে, খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, প্রকল্পের জন্য অর্থ ব্যয় করে অবকাঠামো তৈরি করা হলেও হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, সহায়ক জনবল, যন্ত্রপাতি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা এখনও নিশ্চিত হয়নি।

প্রসঙ্গত, খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিশুদের জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য এখনও ঢাকা কিংবা দেশের বাইরে যেতে হয়। তাই দ্রুত হাসপাতালটি চালুর পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

/এনজেএস/এসআইএন


Logo