রংপুরে চার খুন
ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় আনা হলো দুই আসামিকে
রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৫ এএম
রংপুরের চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত একাধিক আলামতে পুরুষের ডিএনএ’র অস্তিত্ব পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার ফরেনসিক প্রমাণ আরও সুনির্দিষ্ট ও বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত করতে আদালতের নির্দেশে কারাবন্দি দুই প্রধান আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এই দুই আসামিকে একটি বিশেষ প্রিজন ভ্যানে করে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে রওনা হয় রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী।
রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী জানান, বিজ্ঞ আদালতের আদেশে কারাগারে থাকা আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ঢাকায় সিআইডির প্রধান কার্যালয়ের ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। সেখানে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে। প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের পুনরায় রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হবে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে জব্দকৃত ৩৫টি আলামতের মধ্যে খেজুর, শসা, ইয়াবা সেবনের ফয়েল এবং ফল কাটার চাকুসহ বেশ কিছু স্পর্শকাতর জিনিসে পুরুষ মানুষের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ফলে সংগৃহীত আলামতের সঙ্গে আসামিদের ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হবে। এর মাধ্যমে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে কেবল সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধই জড়িত ছিল, নাকি এর পেছনে আরও কেউ সম্পৃক্ত ছিল—তা বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
সিআইডি সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল এবং তার পরিবারের তিন সদস্যের ডিএনএ নমুনা আগেই সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। এখন আসামিদের ডিএনএ প্রোফাইলের সাথে সংগৃহীত আলামত মিলে গেলেই আদালতে এটি অকাট্য সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
উল্লেখ্য, গেল ২১ আগস্ট মধ্যরাতের পর মহানগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়িতে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, কন্যা আগামী চক্রবর্তী এবং কনিষ্ঠ পুত্র জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়ুশ চক্রবর্তী। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পরদিনই সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তারা হত্যাকাণ্ডের বিশদ বর্ণনা দিয়ে দায় স্বীকার করে। এছাড়া ওই রাতে প্রথমে যে বন্ধুর বাসায় ইয়াবা সেবন করা হয়েছিল, সেই বন্ধু সীমান্ত এবং হত্যাকাণ্ডের পর আশ্রয়প্রার্থী হওয়া শ্মশানের পাহারাদার বিদ্যুৎ দাসও আদালতে সাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
/এএ