চুয়াডাঙ্গায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ
চুয়াডাঙ্গা করেসপনডেন্ট
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০২ এএম
চুয়াডাঙ্গা জেলায় বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর পরপরই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ৪৫টি ডিলার পদের বিপরীতে জমা পড়া ৬৪৩টি আবেদন বর্তমানে যাচাই-বাছাই চলছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের আবেদনকারী শামসুর রশিদের বিরুদ্ধে ঠিকানা জালিয়াতি, একই পরিবারে একাধিক লাইসেন্স থাকা এবং হত্যা মামলার আসামি হওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের পক্ষে মোহাম্মদ মিঠু নামের এক ব্যক্তি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বরাবর শামসুর রশিদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শামসুর রশিদ আলুকদিয়া ইউনিয়নের হুচুকপাড়ার ঠিকানা ব্যবহার করে আবেদন জমা দিলেও তিনি ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা নন। কেবল ডিলারশিপ বাগিয়ে নেওয়ার অসদুপায়ে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ঠিকানা পরিবর্তন করেন।
এছাড়া তার পরিবারের একাধিক সদস্য আগে থেকেই সার ডিলার হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। একই পরিবারে একাধিক ব্যক্তি কীভাবে নতুন করে ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেন, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আবেদনকারী শামসুর রশিদের বিরুদ্ধে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র হত্যার ঘটনায় একটি মামলা রয়েছে (মামলা নং ২৫২/২৫)। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মামলার ১ নম্বর আসামি, সেই মামলার ৬১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি শামসুর রশিদ।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শামসুর রশিদ। তিনি দাবি করেন, সমন্বিত নীতিমালা অনুযায়ী সব নিয়ম মেনেই আমি আবেদন জমা দিয়েছি। ওই এলাকায় আমার নিজস্ব বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, এখানে অনিয়ম করার কোনো সুযোগ নেই। আর মামলার বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ মনগড়া, যা ইতোমধ্যে আইনিভাবে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম জানান, সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা অসদুপায় সহ্য করা হবে না। একাধিক ধাপে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই চলছে এবং নীতিমালা অনুযায়ী কোনো আবেদনকারী অযোগ্য বা ত্রুটিযুক্ত প্রমাণিত হলে তাঁর আবেদন সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করা হবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ার যাচাই-বাছাইয়ের কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সার নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করেই স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে; নিয়মের বাইরে কাউকে কোনো সুযোগ দেওয়ার অবকাশ নেই।
/এএ