নর্থ-সাউথ শিক্ষার্থী লিপু হত্যা
১২ বছর পর হাইকোর্টের রায়ে খালাস মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২ জনসহ যাবজ্জীবন পাওয়া আরও ৮ আসামি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
কুষ্টিয়ায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ-সাউথের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম লিপু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া আট আসামিসহ মোট ১০ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিলের ওপর শুনানি শেষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মো. নুরুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
হাইকোর্টের এই রায়ের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে খালাস পেয়েছেন রাকিবুল ইসলাম বাপ্পি ও সুমন। এছাড়া যাবজ্জীবন সাজা থেকে খালাস পাওয়া আটজন হলেন—হৃদয়, আলিফ, সাজেদুল, নয়ন, সজিব, মিনহাজ, মিলন এবং জুহাইম খন্দকার ওরফে শুভ।
এর আগে ২০১৭ সালে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ বি এম মাহমুদুল হক এ মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন। বিচারিক আদালতের সেই রায়ে দুজনকে ফাঁসি, আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, চারজনকে ১০ বছরের সাজা এবং বাকি চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী ফাঁসির আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে এবং আসামিপক্ষও সাজার বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় একটি ব্যাংকে কর্মরত বাবার সন্তান ও নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম লিপুকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে গুম করা হয়।
এ ঘটনায় লিপুর বাবা ওয়াহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৪ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া মডেল থানায় ছেলের বন্ধু ইমন, শুভ ও রাতুলসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে অপহরণ, হত্যা ও লাশ গুমের মামলা দায়ের করেন। আসামিদের গ্রেফতারের পর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও তদন্তের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও হাইকোর্টের আপিল শেষে আজ এই রায় এলো।
/এএ