পঞ্চগড়ে পৃথক অভিযানে ৫৮ বস্তা সার জব্দ, ভ্যানচালক ও ব্যবসায়ীকে জরিমানা
পঞ্চগড় করেসপনডেন্ট
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় পৃথক দুই অভিযানে অবৈধভাবে পরিবহন ও মজুদ করা মোট ৫৮ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় তিন ভ্যানচালক ও এক সার ব্যবসায়ীকে মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসাইন।
এর আগে, রোববার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়ন থেকে তিনটি ভ্যানে করে রাসায়নিক সার শালবাহান হাটে নিয়ে আসার সময় স্থানীয় বাজারের লোকজন ভ্যান তিনটি আটক করেন। পরে সার থাকার বিষয়টি ইউএনওকে জানায় স্থানীয়রা।
পরে খবর পেয়ে ইউএনও আনোয়ার হোসাইন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবরিনা আফরিন এবং তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় তিনটি ভ্যান থেকে মোট ৩৫ বস্তা সার জব্দ করে উপজেলা পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়।
আটক ভ্যানচালকরা হলেন,উপজেলার নারায়ণজোত গ্রামের মৃত জকিম উদ্দিনের ছেলে মো.আক্তারুল (৪০), ফুটকিবাড়ী গ্রামের তমিজ উদ্দিনের ছেলে মো. সাহেদুল (৩০) এবং নারায়ণগছ গ্রামের মৃত জহর আলীর ছেলে মো. ছানোয়ার হোসেন (৪০)।
এসময় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী প্রত্যেক ভ্যানচালককে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই ঘটনায় সার সরবরাহকারী রেশমা ট্রেডার্স, তিরনইহাটের ম্যানেজার শাকিল হোসেনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। উভয় পক্ষের কাছ থেকে মোট ৪৫ হাজার টাকা নগদে আদায় করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে ভ্যানচালক ছানোয়ার হোসেন জানান, তিরনইহাট এলাকার রিপনের বাড়ি থেকে সারগুলো ভ্যানে তুলে শালবাহান হাটের ধানবাজার এলাকার হারুনের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছিল। স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হারুন একজন মুদি দোকানদার এবং তার একটি চা-বাগান রয়েছে।
এদিকে একই রাতে অবৈধভাবে মজুদ করা সারের সন্ধানে পৃথক অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। রাত সাড়ে ১১টা থেকে রাত ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম আকাশ তেঁতুলিয়া মডেল থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তিরনইহাট ইউনিয়নের মানিক ইসলামের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে ওই বাড়ি থেকে ২৩ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে পটাশ ৪ বস্তা, বিআরবি ডাব ১১ বস্তা এবং টিএসপি ৮ বস্তা রয়েছে। অভিযানের সময় মানিক ইসলামসহ বাড়ির লোকজন পলাতক থাকায় কাউকে গ্রেপ্তার বা জরিমানা করা করতে পারেনি৷ পরে গোপন সংবাদ পেয়ে বকশিপাড়া গ্রামের মো. নাঈম ও নাজমুলের বসতবাড়িতেও অভিযান চালায়।
এদিকে পৃথক দুটি অভিযানে জব্দ হওয়া মোট ৫৮ বস্তা সার উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসাইন বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং অভিযান পরিচালনা করি৷ পরে অবৈধ ভাবে সার মজুদের দায়ে জরিমানা করা হয়েছে৷ জব্দকৃত সার পরবর্তীতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে সাধারণ কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হবে। আমাদের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
/এমএইচআর