ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ভাতিজাকে খুনের আড়াই মাস পর চাচাকে কুপিয়ে হত্যা
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) করেসপনডেন্ট
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দীর্ঘদিনের গ্রাম্য দলাদলি ও পূর্বশত্রুতার জেরে ভাতিজা হত্যার আড়াই মাসের মাথায় তার চাচাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত রবিউল ইসলাম শেখ ওরফে রবি (৪৫) পেশায় চায়ের দোকানি। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রবি আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামের সাত্তার শেখের ছেলে। তিনি কাশিয়ানী সদর বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন।
হামলায় আহতরা হলেন, মোক্তার বিশ্বাস (৫০), হৃদয় শেখ (২১) ও লিটন খান (৪০)। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে মোক্তার বিশ্বাসের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে কাশিয়ানী সদর বাজারের চায়ের দোকান বন্ধ করে আরও তিনজনের সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন রবি। তারা মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছাকাছি পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের কুপিয়ে জখম করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় রবির ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। হামলায় সঙ্গে থাকা আরও তিনজন আহত হন।
এর আগে গত ২৬ জুন সন্ধ্যায় একই ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া গ্রামের উকিল শেখের বাড়ির সামনে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় কুপিয়ে হত্যা করা হয় সুমন শেখ (২৪) নামে এক কলেজছাত্রকে। তিনি আলাউদ্দিন শেখের ছেলে এবং কাশিয়ানী এম.এ. খালেক ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। নিহত রবি ছিলেন সুমনের চাচা।
স্থানীয়রা জানান, বড়ভাগ গ্রামে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও গ্রাম্য বিরোধ চলে আসছে। প্রায় চার বছর ধরে এই বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা ও মামলা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সুমনকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সুমন হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কয়েকজন আসামি গ্রেফতার হওয়ার পর সম্প্রতি জামিনে বের হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। তাদের জামিনে বের হওয়ার পর এলাকায় ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। এর মধ্যেই এবার সুমনের চাচা রবিউল ইসলাম রবি হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন।
আলফাডাঙ্গা থানার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল আমিন বলেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কেউ জামিনে বের হয়ে এ ঘটনায় জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা সার্কেল) মাসুদুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হত্যার কারণ এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
/এনএ