×
Logo

সারাদেশ

পটুয়াখালীর দশমিনায় তেঁতুলিয়া নদীতে ভয়াবহ ভাঙন, আতঙ্কে স্থানীয়রা

স্টাফ করেসপনডেন্ট, পটুয়াখালী

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

পটুয়াখালীর দশমিনায় তেঁতুলিয়া নদীতে ভয়াবহ ভাঙন, আতঙ্কে স্থানীয়রা

পটুয়াখালীর দশমিনায় তেঁতুলিয়া নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের আতঙ্কে রাতভর ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছেন স্থানীয়রা। সকালে নদীর তীরে ঝুঁকিতে থাকা কবরস্থান থেকে বাবা-মা ও স্বজনদের কবর খুলে মরদেহও অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এদিকে ভাঙন প্রতিরোধ, সড়ক ও বেড়িবাঁধ রক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার হাজিরহাট লঞ্চঘাটসংলগ্ন ভাঙনপ্রবণ এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দারাও অংশ নেন।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে হাজিরহাট এলাকার সড়কের একটি বড় অংশে ভাঙন শুরু হয়। রাত ১১টার দিকে সড়কের একটি অংশ তেঁতুলিয়া নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এরপর সড়কের পাশের বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিতে শুরু করেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সড়ক রক্ষায় প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত পেরিয়ে সকাল হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আসেননি। পরে সকাল ১০টার দিকে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ কয়েকজন কর্মকর্তা স্পিডবোটে করে ভাঙনকবলিত এলাকায় গিয়ে সমীক্ষা চালান।

গত কয়েক দিনের ভাঙনে সড়কের অংশ, বেড়িবাঁধ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেলা জিওব্যাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে সড়কের পাশের কবরস্থানও ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। ফলে বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগীরা কবর খুলে স্বজনদের মরদেহ অন্যত্র স্থানান্তর করেন।

ভাঙন অব্যাহত থাকায় হাজিরহাট জামে মসজিদ, হাজিরহাট বাজার ও হাজিরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধের বাকি অংশও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এতে আরও বসতবাড়ি, সড়ক, কবরস্থান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইউএনও মো. মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও বেড়িবাঁধ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে উপজেলা প্রশাসন।

/এনএ 

Logo