×
Logo

সারাদেশ

শিবির নেতাকে থাপ্পড়, ইবিতে ছাত্রদল-শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা

কুষ্টিয়া করেসপনডেন্ট

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম

শিবির নেতাকে থাপ্পড়, ইবিতে ছাত্রদল-শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে থাপ্পড় মারাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের জিয়া হল সেক্রেটারি কাজী জুহায়ের হোসেনকে শাখা ছাত্রদলের সদস্য আলীনূর রহমান থাপ্পড় মারেন। জুহায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং আলীনূর আরবি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ হয়ে শহীদ জিয়া হলে আসেন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা আলীনূরের কক্ষের জানালার গ্লাস ভাঙচুর করেন। সেখানে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীও উপস্থিত হন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

এ সময় কক্ষের বাইরে শিবিরের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরে প্রক্টরিয়াল বডির নেতৃত্বে আলীনূরকে আনতে গেলে ফের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকায় তাঁকে সেখান থেকে বের করা সম্ভব হয়নি।

পরে প্রক্টরিয়াল বডি উভয়পক্ষের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে হল অফিসে আলোচনায় বসেন। এ সময় ভুক্তভোগী জুহায়ের সেখানে উপস্থিত হলে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা আলীনূরকে রুম থেকে আনতে যান। শিবির কর্মীদের উত্তেজনায় তাকে বের করতে না পারলে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ সভা ত্যাগ করেন। বের হতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে আলীনূরকে পুলিশী সহায়তায় প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে নিতে গেলে শিবিরকর্মীরা তার ওপর চড়াও হয়ে কিলঘুষি মারেন এবং গাড়ির কাঁচ ভেঙে ফেলেন।

এ ঘটনার পরপরই বিকেল চারটার দিকে গাড়ি আটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করে ছাত্রদল। সেখানে রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র হাতে বহিরাগতদের মহড়া দিতে দেখা যায়। একইসঙ্গে, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে জিয়া মোড়ে অবস্থান নেন। সাড়ে চারটার দিকে ছাত্রদল প্রধান ফটক খুলে দেয়।

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে দেশীয় অস্ত্র হাতে শোডাউন দিতে দেখা গেছে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের। একইসঙ্গে, বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন হল পকেট গেট ও আজিজ হল পকেট গেটে অবস্থান নেয় স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরকর্মীরা।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের জিয়া হল সেক্রেটারি জুহায়ের হোসেন বলেন, আমি পরীক্ষা শেষে এক বন্ধুর সঙ্গে হলে যাচ্ছিলাম। এ সময় আলীনূর আচমকা এসে আমাকে থাপ্পড় মারেন। পূর্বে তার সঙ্গে আমার কোনো বিরোধও ছিল না। কেন আমাকে মারলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'তুই বেয়াদব, তাই মেরেছি। আমার ইচ্ছা হয়েছে, তাই মেরেছি।'

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আলীনূর বলেন, আমি তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বেয়াদব বলি। পরে তিনি আমাকে গালি দেন। এ সময় আমি তাকে থাপ্পড় দিই। তবে তার সাথে আমার পূর্বে কোনো সমস্যা ছিল না।

শাখা ছাত্রদল আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, বিষয়টি সমাধানে প্রক্টর অফিসে আলোচনা চলছে। 

শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, আমাদের হল সেক্রেটারির ওপর ছাত্রদল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা করেছে। শান্ত ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে ছাত্রদলের বহিরাগতরা দেশীয় অস্ত্র নিয়েও মহড়া দিয়েছে। এমন ন্যাক্কারজনক হামলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, বিষয়টি সমাধানে উভয়পক্ষকে নিয়ে আলোচনা চলছে।

/এএম

Logo