×
Logo

সারাদেশ

কুষ্টিয়ায় কবর থেকে 'পীরের' মরদেহ তুলে ফের দরবারে দাফন

কুষ্টিয়া করেসপনডেন্ট

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম

কুষ্টিয়ায় কবর থেকে 'পীরের' মরদেহ তুলে ফের দরবারে দাফন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমানের কবরস্থানে দাফন করা লাশ দীর্ঘ ৫ মাস পর কবর থেকে তুলে তার নিজ দরবারে বা আস্তানায় দাফন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ভক্তরা শামীমের মরদেহ কবর থেকে তুলে দরবারে নিয়ে দাফন করেন বলে স্থানীয়রা জানান।

এলাকাবাসী সূত্রে জানায়, পীর শামীম নিহতের পর থেকেই তার ভক্তদের একটি অংশ কবর থেকে লাশ তুলে দরবারে দাফনের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এ কারণে পীরকে দাফনের পর বেশ কিছুদিন ওই কবরস্থানে পুলিশ পাহারায় ছিল। তবে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় ভক্তরা কবর থেকে লাশ তুলে দরবারে নিয়ে পুনরায় দাফন করেছে। 

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

'পীর' শামীমের ভাই মো. ফজলুর রহমান সান্টু বলেন, 'রাতের আঁধারে কারা কীভাবে কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন করে দরবারে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘটনাটি দেখতে পেয়ে পুলিশ প্রশাসনকে খবর দিই। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।'

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, 'পীর শামীম জাহাঙ্গীরের লাশ কবরস্থান থেকে কারা কীভাবে উত্তোলন করে দরবারে দাফন করেছে, এমন খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'

এমন পরিস্থিতি নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা আছে কি না, জানতে চাইলে ওসি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা নেই।

দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, 'পীরের লাশ কবরস্থান থেকে উত্তোলন করে দরবারে পুনরায় দাফন করা হয়েছে, এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। পরবর্তী যে সিদ্ধান্ত হবে, তা জানানো হবে।'

উল্লেখ্য, পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে ১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিভিন্ন বয়সী দুই শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানা বা দরবারে হামলা চালায়। এসময় রাজিব মিস্ত্রিসহ হামলাকারী যুবকরা পীর শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনে হেঁচড়ে বের করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে দোতলা থেকে নীচে ছুড়ে ফেলে। এরপর হামলাকারীরা সংগবদ্ধভাবে আস্তানায় আগুন জ্বালিয়ে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাট চালায়। নিহত পীরের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন ১২ এপ্রিল বিকেলে একই ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর (পাঁচশত বিঘা) কবরস্থানে দাফন করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের ৩দিন পর ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০-২০০ জনকে আসামি করা হয়।

/এমএইচআর

Logo