চট্টগ্রামে পাহাড়-বনাঞ্চলে সন্ত্রাস দমনে পুলিশের নতুন কৌশল, এপিবিএনের ক্যাম্প বসানোর প্রস্তাব
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২০ এএম
চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িতে সন্ত্রাস দমনে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন কৌশল নিয়েছে পুলিশ। দুর্গম পাহাড় ও বনাঞ্চলে অপরাধীদের আস্তানা শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক সার্ভেইল্যান্স ড্রোন। পাশাপাশি চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ধরতে বসানো হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ফেস ডিটেকটিভ ক্যামেরা।
দ্রুত অভিযানে যেতে রাউজানের কদলপুর, রাঙ্গুনিয়ার সরভাট্টা ও বেতাগী এবং ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) চারটি ক্যাম্প স্থাপনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। প্রতিটি ক্যাম্পে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত এক প্লাটুন করে পুলিশ সদস্য রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
২৪ আগস্টের পর থেকে চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ির দুর্গম পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বেড়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব এলাকায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড, প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনসহ নানা অপরাধের ঘটনা ঘটছে। অভিযান চালাতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও একাধিকবার বাধা ও হামলার মুখে পড়েছে।
চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, এপিবিএনের সদস্যরা ভারী অস্ত্র ব্যবহারে প্রশিক্ষিত এবং তাদের সেমি-মিলিটারি বা প্যারামিলিটারি ধরনের প্রশিক্ষণ রয়েছে। ফলে দুর্গম এলাকায় দ্রুত অভিযান পরিচালনায় তাদের মোতায়েন করা গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হবে।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে নজরদারি বাড়াতে থার্মাল প্রযুক্তিসম্পন্ন অত্যাধুনিক সার্ভেইল্যান্স ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। দূর থেকে উচ্চ রেজুলেশনে এসব এলাকার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে অভিযানের আগে অপরাধীদের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তাও বাড়বে।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ফটিকছড়ির ডেভিড ইমন, রাউজানের রাইহানসহ রাঙ্গুনিয়ার বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যদের তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব সন্ত্রাসীর গতিবিধি নজরদারিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ২০ পয়েন্টে শতাধিক এআই ফেস ডিটেকটিভ ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে পুলিশ।
চিহ্নিত কোনো সন্ত্রাসী ক্যামেরার আওতায় এলেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তার মুখ শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কাছে ছবিসহ অবস্থানের তথ্য পাঠাবে এসব ক্যামেরা। ফলে অপরাধীদের গতিবিধি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়া এবং তাদের গ্রেফেতারে অভিযান পরিচালনা সহজ হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
মাসুদ আলম বলেন, এআই সফটওয়্যারের মাধ্যমে চিহ্নিত ব্যক্তিদের গতিবিধি ও বিভিন্ন কার্যক্রম শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের ওপর নজরদারি আরও কার্যকর হবে বলে মনে করছে পুলিশ।
/এসআইএন