দেড় বছর বন্ধ থাকা আশুগঞ্জ সার কারখানা চালুর দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া করেসপনডেন্ট
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা আধুনিকায়নের মাধ্যমে দ্রুত চালু, কারখানার জমি সার শিল্পের কাজে ব্যবহার এবং এর পূর্বনাম ‘আশুগঞ্জ জিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড’ পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আশুগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোল প্লাজার সামনে এএফসিসিএল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা কিছু সময়ের জন্য ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন।
কর্মসূচিতে শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেন আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামী ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া সিএনজি, ট্রাক ও রিকশা মালিক সমিতি এবং আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সিবিএর নেতাকর্মীরাও এতে অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, আশুগঞ্জ সার কারখানার জমি লিজ দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। তারা বলেন, কারখানার জমি রাষ্ট্রের মালিকানায় রেখে সার শিল্পের স্বার্থে ব্যবহার করতে হবে। ওই জমিতে শিল্প স্থাপনের পাশাপাশি উৎপাদিত সার কৃষকের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
শ্রমিক-কর্মচারীরা একই সঙ্গে গ্যাস সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করে কারখানাটি আধুনিকায়নের দাবি জানান। কারখানাটি আধুনিকায়ন সম্ভব না হলে সেখানে নতুন একটি সার কারখানা স্থাপনেরও দাবি করেন তারা।
কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা জানান, প্রয়োজনীয় গ্যাসের অভাবে ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে আশুগঞ্জ সার কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানার মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
১৯৮৩ সালে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে আশুগঞ্জ সার কারখানা। শুরুর দিকে কারখানাটিতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৬০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন হতো। পরবর্তী সময়ে উৎপাদন সক্ষমতা কমে বর্তমানে তা প্রায় ১ হাজার ১০০ টনে নেমে এসেছে।
কারখানা সংশ্লিষ্টরা জানান, গত কয়েক বছর ধরেই গ্যাস সংকটের কারণে বছরের একটি বড় সময় কারখানাটিতে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, দেশের সার কারখানাগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ রেখে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। অথচ দেশে তুলনামূলক কম খরচে সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। তাই আমদানির পরিবর্তে বিদ্যমান কারখানাগুলো আধুনিকায়ন করে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা উচিত।
তারা আরও বলেন, সম্প্রতি ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে সার ও এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দেশের বাজারে সারের দাম বেড়েছে। এ অবস্থায় দেশে সার উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানো জরুরি।
কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু কাউসার, সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর রহমান, কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, অফিসার্স ইউনিয়নের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেত্রী জয়ন্তী বিশ্বাস, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নোয়াব আলী মুন্সী, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির শাহজাহান ভূঁইয়া, উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ, উপজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহআলম ও উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো. আব্দুল কুদ্দুসসহ অনেকে।
সমাবেশে বক্তারা কারখানাটি আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি এর পূর্বনাম ‘আশুগঞ্জ জিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড’ পুনর্বহালের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবার স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে তারা এ দাবি জানান।
মানববন্ধন থেকে ‘শিল্প বাঁচাও’, ‘কর্মসংস্থান বাঁচাও’, ‘কৃষি বাঁচাও’ ও ‘দেশ বাঁচাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। দ্রুত কারখানাটি আধুনিকায়ন করে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে এবং এর জমি সার শিল্পের কাজে ব্যবহারের নিশ্চয়তা দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।
উল্লেখ্য, আশুগঞ্জ সার কারখানায় বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। উৎপাদিত সার ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জসহ কারখানার কমান্ড এরিয়াভুক্ত আটটি জেলায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
/এমএইচআর