×
Logo

সারাদেশ

স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম কমিশন গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০০ পিএম

স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম কমিশন গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

দেশে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। তারা বলেন, এই গণমাধ্যম কমিশন গঠনের মাধ্যমে সরকার স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম কাঠামো গড়ে তোলার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা বান্তবায়নের জন্য এখন প্রয়োজন একটি অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া।

শনিবার (২৯ আগস্ট) যশোরে ‘গণমাধ্যম কমিশন: সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে এ আহ্বান জানানো হয়। স্থানীয় দৈনিক লোকসমাজ ও দৈনিক গ্রামের কাগজের যৌথ উদ্যোগে এবং মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) ও ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া সাপোর্ট (আইএমএস), ডেনমার্কের সহযোগিতায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা বলেন, কমিশন গঠনের আগে গণমাধ্যম মালিক, সম্পাদক, সাংবাদিক সংগঠন, আইন বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিকতা বিষয়ের শিক্ষক, গণমাধ্যম উন্নয়ন সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া জরুরি।

এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান বলেন, কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই গণমাধ্যম অংশীজন ও নাগরিকদের মতামত বিবেচনায় নিতে হবে। 

এছাড়া, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা কর্ম পরিকল্পনা এবং তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন এর মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক ‘মিডিয়া রেগুলেটরি কাঠামো’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দ্রুতই বাস্তবায়ন হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি। 

গণমাধ্যমের মালিকানার ক্ষেত্রে সার্কুলেশন সংখ্যা প্রকাশ এবং অডিটে বড় ধরনের অনিয়ম রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন পাঠকের আস্থা বাড়াতে হলে এসব প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে সাংবাদিকদের জন্য একটি কার্যকর কোড অব কনডাক্ট প্রণয়নও গুরুত্বপূর্ণ।

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান এবং দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ বলেন, জনস্বার্থে সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে এখনই সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড নির্ধারণের সময় এসেছে। এর মাধ্যমে একদিকে সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও পেশাগত মান বজায় থাকবে, অন্যদিকে জনগণের সঠিক তথ্য পাওয়ার অধিকারও অক্ষুণ্ন থাকবে।

তিনি আরও বলেন, সম্পাদকদের নিজেদের জন্য একটি জাতীয় সম্পাদকীয় গাইডলাইন তৈরি করা প্রয়োজন এবং তা অনুসরণ না করলে জবাবদিহি বা শাস্তির ব্যবস্থা থাকা উচিত। পাশাপাশি তিনি একটি স্থায়ী গণমাধ্যম কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন, যা সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব, সাংবাদিকতার মান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে। “গণমাধ্যম কমিশন সংক্রান্ত আইনের সর্বশেষ যে খসড়া ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে, সরকার চাইলে সেটিকে ভিত্তি করে কাজ শুরু করতে পারে। তবে এ বিষয়ে আলোচনা যেন অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে না থাকে, সেদিকেও নজর দিতে হবে,” বলে জানান তিনি। 

যশোরের স্থানীয় দৈনিক লোকসমাজের প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত বলেন, কমিশনকে জবাবদিহির আওতায় রেখে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবির নান্টু সাংবাদিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা, স্বাধীন সাংবাদিকতার উপযোগী বিজ্ঞাপন নীতিমালা এবং নিয়োগ ও ছাঁটাইয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালার দাবি জানান।

দৈনিক গ্রামের কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক মবিনুল ইসলাম মবিন বলেন, কমিশন গঠনে জনমত তৈরিতে আরও আলোচনা প্রয়োজন। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।

/এএন




Logo