গাইবান্ধায় এসপির বাংলো থেকে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
গাইবান্ধা করেসপনডেন্ট
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪১ এএম
গাইবান্ধায় পুলিশ সুপারের বাসভবনের (বাংলো) বাথরুম থেকে হাবিবুর রহমান (৪০) নামে এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত হাবিবুর রহমান নীলফামারী শহরের বাবুপাড়ার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার মিন্টু মিয়ার ছেলে। গত ১২ আগস্ট থেকে তিনি পুলিশ সুপারের বাংলোর গার্ড রুমে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে বদলি হয়ে গাইবান্ধা পুলিশ লাইনে রিজার্ভ ফোর্সে যোগ দেন। পরে তাকে পুলিশ সুপারের বাংলোয় দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গার্ড রুমে দায়িত্ব পালন শেষে হাবিবুর বাংলোর বাথরুমে যান। দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি বাইরে না আসায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। পরে দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তারা। এ সময় বাথরুমের রডের সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় হাবিবুরের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. জসিম উদ্দিন জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বাথরুমে পাওয়া যায়। ফোনটি এমনভাবে রাখা ছিল, যাতে ধারণা করা হচ্ছে ঘটনার সময় ভিডিও কল চালু থাকতে পারে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, কী কারণে হাবিবুর এমন পথ বেছে নিয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য ও পারিবারিক কলহের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে প্রকৃত কারণ তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে।
জানা যায়, ডিএমপিতে কর্মরত থাকাকালে পুলিশের সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর (এএসআই) হাবিবুর রহমান স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। বদলি হয়ে গাইবান্ধায় আসার পরও তার স্ত্রী ও সন্তান ঢাকাতেই ছিলেন।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা জানান, প্রাথমিক তদন্ত ও অনুসন্ধানে তার সঙ্গে স্ত্রীর দাম্পত্য কলহের বিষয়টি জানা গেছে। ঘটনার আগেও তাকে মোবাইল ফোনে কারও সঙ্গে কথাকাটাকাটি ও রাগারাগি করতে শোনা যায়। পরে তিনি বাথরুমে প্রবেশ করেন।
এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত ও অনুসন্ধান চলছে এবং ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পুলিশ লাইনে জানাজা শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানায় পুলিশ।
/এএন