×
Logo

সারাদেশ

শরীয়তপুরে দায়িত্ব পালনের সময় ৩ সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

শরীয়তপুর করেসপনডেন্ট

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:১২ পিএম

শরীয়তপুরে দায়িত্ব পালনের সময় ৩ সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

অভিযুক্ত আরিফুজ্জামান মোল্লা

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তিন সাংবাদিককে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এসময় এক সাংবাদিকের মুঠোফোন ও পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ ওঠা ভুক্তভোগী তিন সাংবাদিক হলেন— নিউজ টুয়েন্টিফোর টেলিভিশন, জাগো নিউজ ও খবরের কাগজের শরীয়তপুর প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনি, দ্য ডেইলি স্টারের শরীয়তপুর ও মাদারীপুর প্রতিনিধি জাহিদ হাসান রনি এবং দৈনিক এদিনের শরীয়তপুর প্রতিনিধি বরকত উল্লাহ।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সম্প্রতি জেলা প্রশাসন শরীয়তপুর প্রেসক্লাবকে লিখিত নোটিশ না দিয়ে প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দেয়। এর প্রতিবাদে রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা।

এরই জেরে মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে সেখানে যান সাংবাদিক বিধান মজুমদার অনি।

অভিযোগ করা হয়, সেখানে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমান মাদবরসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন। পরে সংবাদ সংগ্রহের সময় একইভাবে জাহিদ হাসান রনি ও বরকত উল্লাহর ওপরও হামলা চালানো হয়। এ সময় জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লাসহ কয়েকজন হামলায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

একপর্যায়ে জাহিদ হাসান রনির মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং ধারণ করা ফুটেজ মুছে ফেলতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরে স্থানীয়রা আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক বিধান মজুমদার অনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। তিনি জনান, একপর্যায়ে কয়েকজনের সহযোগিতায় ঘটনাস্থল থেকে সরে গিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। 

দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি জাহিদ হাসান রনি বলেন, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফ মোল্লাসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন। পরে তার পরিচয়পত্র ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে ধারণ করা ফুটেজ ডিলিট করতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। 

দৈনিক এদিনের জেলা প্রতিনিধি বরকত উল্লাহ অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফ মোল্লা তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘ও সাংবাদিক, ওকে ধর।’

এরপর তার নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক দলের আমান মাদবরসহ কয়েকজন সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন বরকত উল্লাহ। তিনি বলেন, তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

হামলার সময় তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন এই সাংবাদিক।

বরকত উল্লাহ বলেন, একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও হেনস্তা করা হয়েছে এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এদিকে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে শরীয়তপুর জেলা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন।

জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন সরদার বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে জানতে জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এক সংবাদকর্মীর সঙ্গে উত্তেজিত ও উদ্ধত আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘অনেকেই লিস্টে আছে, সন্ধ্যার পর খবর পেয়ে যাবে। তুমি নিজেও তৈরি থাকো ইনশাআল্লাহ।’ এছাড়া কথা বলার একপর্যায়ে তিনি ওই সংবাদকর্মীকে বলেন, ‘তোমরা লেখবা আর আমরা তো তোমাদের পিটাবো।’

অভিযোগের বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান বলেন, তিনি একজন ব্যক্তিকে কয়েকজনের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করতে দেখেছেন। তবে ওই ব্যক্তি সাংবাদিক ছিলেন— এটি তারা জানতেন না বলে দাবি করেন তিনি।

এর বাইরে এ বিষয়ে আর কিছু বলতে রাজি হননি আমান। প্রয়োজন হলে সামনাসামনি কথা বলার কথাও জানান তিনি।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহ মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছেন। এভাবে তার প্রত্যাহার দাবি করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার অভিযোগ, সাংবাদিকতার আড়ালে কিছু সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিবাদের দোসর বিএনপি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এমন কর্মকাণ্ড করেছে। এ কারণে তারা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন বলে জানান তিনি।

তবে ওই সমাবেশে কোনো সাংবাদিক নিগৃহীত বা মারধরের শিকার হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে দাবি করেন।

ঘটনার বিষয়ে শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তানভীর হোসেন বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে তারা বিষয়টি ইতোমধ্যে জানতে পেরেছেন।

তিনি জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এনএ 


Logo