×
Logo

সারাদেশ

অ্যালকোহলের কাছে হারলো চিনি, কেরুর রেকর্ড মুনাফা ১৬৫ কোটি টাকা

চুয়াডাঙ্গা করেসপনডেন্ট

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম

অ্যালকোহলের কাছে হারলো চিনি, কেরুর রেকর্ড মুনাফা ১৬৫ কোটি টাকা

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানির চিনি উৎপাদন ইউনিটে বছরের পর বছর গুনছে লোকসান। তবে ডিস্টিলারি ও অন্যান্য ইউনিটে একের পর এক মুনাফার রেকর্ড গড়ছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেরুর নিট মুনাফা হয়েছে ১৬৫ কোটি টাকারও বেশি। যা স্মরণকালের রেকর্ড। এর মধ্যে শুধু অ্যালকোহল বিক্রি থেকেই এসেছে ২২৪ কোটি টাকা। বিপরীতে, একই সময়ে চিনি কারখানায় লোকসান হয়েছে ৬০ কোটি টাকার বেশি।

জানা গেছে, প্রায় ৯০ বছরের পুরোনো রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল কেরু অ্যান্ড কোম্পানি। চিনি উৎপাদনে লোকসান থাকলেও অন্যান্য ইউনিটের আয়ে দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বিগত অর্থবছরে কেরু মুনাফা করেছিল ১২৯ কোটি টাকা। সেটি তখন প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ছিল।

তবে সামগ্রিক মুনাফার এই চিত্রের উল্টো পিঠে রয়েছে কেরুর চিনি কারখানা। এবার চিনি উৎপাদন ইউনিটে লোকসান দেখানো হয়েছে ৬০ কোটি টাকারও বেশি। চিনিতে প্রতিবছর লোকসান হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আখচাষি ও স্থানীয়রা।

স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, চিনিতে লাভ হচ্ছে না, কারণ এতে রিকভারি কম। এটার জাত পরিবর্তন করলে লাভ করা সম্ভব।

এদিকে, প্রতিবারের মতো এবারও কেরুর মুনাফার সবচেয়ে বড় উৎস ডিস্টিলারি ইউনিট। বিলেতি ও দেশীয় মদ উৎপাদন এবং বিক্রি করে এই ইউনিটে লাভ দেখানো হয়েছে প্রায় ২২৪ কোটি টাকা।

একজন বলেন, মোটামুটি বাজারের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছে এবং এই ডিস্টিলারি কেরু অ্যান্ড কোম্পানির এত বেশি মুনাফা হওয়ার পেছনে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ডিস্টিলারি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রাজিবুল হাসান বলেন, ফরেন লিকারের উৎপাদন ও বিক্রি—দুটিই গত অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে মুনাফা ছিল ১৮৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৩ কোটি টাকায়।

এছাড়াও জৈব সার কারখানা, বাণিজ্যিক খামার ও ফার্মাসিউটিক্যালস ইউনিট থেকেও উল্লেখযোগ্য মুনাফা এসেছে। এসব মুনাফার সঙ্গে লোকসান ও রাজস্ব খাত সমন্বয় করে নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৬৫ কোটি টাকা। তবে আগামীতে চিনি খাতের লোকসান আরও কমিয়ে প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি কেরু কর্তৃপক্ষের।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, প্রকল্পটি বছরজুড়ে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারলে লোকসানের পরিমাণ কমবে। কারণ, আশা করছি আখের রিকভারি কিছুটা বাড়বে। একই সঙ্গে চাষিদের কাছ থেকে বেশি পরিমাণে আখ সংগ্রহ করা গেলে চিনির উৎপাদনও বাড়বে এবং আখের অপচয়ের পরিমাণ কমে আসবে।

/এসআইএন

Logo