কলকাতায় আগুনে নিহত দেবাশীষসহ ৪ জনের মরদেহ ফিরলো নিজ গ্রামে
কুষ্টিয়া করেসপনডেন্ট
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
ভারতের কলকাতায় আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী-সন্তানসহ ৪ জনের মরদেহ কুষ্টিয়ায় নিয়ে আসা হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের শূন্যরেখায় মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে রাত সাড়ে দশটার দিকে কুষ্টিয়ায় নিহতদের মরদেহ নিয়ে আসা হয়। ঘটনার পর থেকেই পরিবারসহ শোকে স্তব্ধ কুষ্টিয়ার গণমাধ্যম অঙ্গন।
দেবাশীষ দত্ত ১১ বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন শহরের থানা পাড়া এলাকার মুসলিম পরিবারের মেয়ে আফসানা শারমিনকে। বিয়ের সময় বিশেষ আইনে উভয় তাদের স্ব-স্ব ধর্ম পালন করবে মর্মে সম্মত হয়েছিলেন। সংসার জীবনে তাদের কোলজুড়ে জন্ম নেয় একটি কন্যা ও পুত্র সন্তান। গত ৩ আগস্ট কন্যা মহিমা দত্তকে বাড়িতে রেখে পুত্র স্বর্ণশীষ দত্ত ও স্ত্রী আফসানা শারমিনকে সাথে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশে ভারতে গিয়েছিলেন দেবাশীষ। সেখানে সাথে ছিলেন দেবাশীষ দত্তের শ্বশুর আকরাম আলী ও ভায়রা ভাই মিঠু।
চিকিৎসা শেষে মিঠু দেশে ফিরে এলেও অন্যদের নিয়ে দেবাশীষ সেখানে থেকে যান। তারা বেঙ্গালুরু থেকে ফিরে কেনাকাটা করার জন্য থেকে যান কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে। পরদিন (২০ আগস্ট) ফেরার কথা থাকলেও তাদের আর ফেরা হলো না জীবিত অবস্থায়।
প্রসঙ্গত, ১৯ আগস্ট ভোরে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে আগুন লাগার ঘটনায় নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দেবাশীষ দত্ত ও তার তিন বছর বয়সী ছেলে স্বর্ণশীষ দত্তের মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কুষ্টিয়া মহাশশ্মানে সৎকার করা হবে। স্ত্রী আফসানা শারমীন ও দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম হোসেনের মরদেহ ইসলামী রীতি অনুযায়ী জানাজা ও কুষ্টিয়া পৌর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে।
সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত দৈনিক আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্বল্প সময়ের কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
/এএম