কুষ্টিয়ায় আমির হামজার সমর্থক-গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
'কুষ্টিয়া-৩' আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার সমর্থকদের সাথে গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় এমপি হামজার গাড়ি ভাঙচুরসহ ৮ থেকে ১০ জন নেতাকর্মী আহত হওয়ার অভিযোগ করেছেন জামায়াত নেতারা।
অন্যদিকে, গণ অধিকার পরিষদের নেতা এই ঘটনায় এমপি'র সমর্থকদের দায়ী করেছেন। একইসঙ্গে, তাদের জেলা অফিসে ভাংচুর করে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আহত করার অভিযোগ তাদের।
দুই দিন আগে, গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে দেওয়া বিরূপ মন্তব্যের প্রতিবাদে, শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে, শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করছিলেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ সময় একটি অনুষ্ঠান শেষে ওই সড়ক দিয়ে আমির হামজার গাড়িবহর যাওয়ার পথে ঘটনাস্থলে উভয় পক্ষের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
আমির হামজার সমর্থকদের আভিযোগ, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ছয় রাস্তার মোড়ে অবস্থান নিয়েছিলেন। এমনকি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে, আগে থেকেই হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তারা। পুলিশের উপস্থিতিতেই গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ তাদের।
তবে গণ অধিকার পরিষদ নেতাদের দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এসে হট্টগোল সৃষ্টি করেন আমির হামজার সমর্থকরা। পরে সন্ধ্যায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা, জেলা কার্যালয়সহ ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।
হামলার ঘটনায় গণ অধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাক আব্দুল খালেক বলেন, ঘটনার সূত্রপাত, আমির হামজা গণ অধিকার পরিষদ নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করেছিলেন, যার প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে আমরা একটি বিক্ষোভ সমাবেশ করছিলাম। এ সময় আমির হামজার গাড়ী ঘটনাস্থলে এসে পৌছালে জামায়াতের নেতাকর্মীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সেখানে উপস্থিত হয় এবং আমাদের সাথে হট্টগোলের সৃষ্টি করে। এরপর জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আমার অফিসে ব্যাপক আকারে ভাংচুর লুটপাট চালায়।
ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত থেকে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ। বলেন, ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত থেকে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে উভয় পক্ষের হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আমাদের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় গণ অধিকার পরিষদ এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে মামলা করার কথা জানানো হয়েছে।
/এআই