কক্সবাজার
জামিনে মুক্ত হচ্ছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রমজান আলীর বদলে কারাভোগ করা ‘সোনামিয়া’
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৫ এএম
বামে কারাভোগ করা সোনামিয়া এবং ডানে প্রকৃত আসামি রোহিঙ্গা রমজান আলী
অবশেষে জামিনে মুক্ত হচ্ছেন কক্সবাজারের আলোচিত ইয়াবা মামলায় অন্যের পরিচয়ে গ্রেফতার হয়ে মৃত্যুদণ্ডের আসামি হিসেবে কারাভোগ করা মুহাম্মদ ইয়াসিন প্রকাশ সোনামিয়া।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে তার। এর আগে, গত ২৩ জুন র্যাবের হাতে গ্রেফতারের পর থেকে সেখানে ছিলেন তিনি।
তার আইনজীবী আবদুল মান্নান জানান, আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হয়েছেন, ২০২০ সালে ইয়াবাসহ গ্রেফতার হওয়া ‘সোনা মিয়া’ এবং বর্তমানে কারাগারে থাকা সোনামিয়া একই ব্যক্তি নন।
সোনামিয়ার মুক্তির আবেদনের পর কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম বিভিন্ন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে চার শর্তে তার জামিন মঞ্জুর করেন। শর্তগুলো হলো— এনআইডি কার্ড থানায় জমা রাখা, ঠিকানা পরিবর্তন না করা, নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজিরা দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিজের অবস্থান জানিয়ে রাখা।
নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ রমজান আলীসহ পাঁচজন গ্রেফতার হন। ওই মামলার এজাহারে দ্বিতীয় আসামি হিসেবে ‘সোনা মিয়া’র নাম দেওয়া হয়। অভিযানের সময় পাওয়া জন্মনিবন্ধনের ফটোকপির সূত্রে তার নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
তবে তদন্ত শেষে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে দাখিল করা অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ওই সময়ের ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া উল্লেখ করেন, দ্বিতীয় আসামি সোনা মিয়ার নাম-ঠিকানা সঠিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পরে ২০২২ সালের ১৩ জুন ‘সোনা মিয়া’ কক্সবাজার জেলা জজ আদালত থেকে জামিন পান এবং এরপর আত্মগোপনে চলে যান। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালত ওই মামলায় সোনা মিয়াসহ পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
রায়ের পর গত ২৩ জুন র্যাব-১৫-এর পরোয়ানার ভিত্তিতে সোনামিয়াকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে কারাগারে যাওয়ার দুই-তিন দিন পরই তিনি জেল সুপারের কাছে আবেদন করে জানান, তিনি ওই মামলার আসামি নন।
পরে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ২ জুলাই আদালতে দেওয়া পুলিশের প্রতিবেদনে উঠে আসে, ২০২০ সালে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ও পরে জামিন পাওয়া ‘সোনা মিয়া’ এবং রায়ের পর র্যাবের হাতে গ্রেফতার সোনামিয়া একই ব্যক্তি নন।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ২০২০ সালে ইয়াবাসহ গ্রেফতার হওয়া ওই ব্যক্তির প্রকৃত নাম রমজান আলী। অর্থাৎ, অন্যের পরিচয় ব্যবহারের কারণে রমজানের মামলায় সোনামিয়াকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাভোগ করতে হয়েছে।
/এনএ