নীলফামারীতে সিলগালা গুদাম থেকে জব্দ ২ কোটি টাকার ৮৮ টন নিষিদ্ধ বালাইনাশক উধাও
নীলফামারী করেসপনডেন্ট
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
নীলফামারীর বিসিক শিল্পনগরীর একটি সিলগালা গুদাম থেকে প্রশাসনের জব্দ করা প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের ৮৮ মেট্রিক টন নিষিদ্ধ কীটনাশক রহস্যজনকভাবে উধাও হওয়ার ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তে নেমেছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীতে বিসিকের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত দল সরেজমিনে পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শনকালে বিসিকের পরিচালক আরিফুল হক সাংবাদিকদের জানান, আমরা সার্বিক ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সকল তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। সংগৃহীত উপাত্তসমূহ নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে শিগগিরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তবে এটি বিসিকের একটি অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক তদন্ত হওয়ায় এখনই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
ঘটনার পটভূমি থেকে জানা যায়, গত ২০২৪ সালের ২৫ জুন নীলফামারীর সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে এসিআই কোম্পানির নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘বিফার ৫ জি’ নামক ৮৮ মেট্রিক টন কীটনাশক জব্দ করে স্থানীয় জেলা প্রশাসন।
উদ্ধারকৃত এসব বালাইনাশকের বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। অভিযানের পরপরই গুদামটি সিলগালা করা হয় এবং বালাইনাশকের মালিককে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
তবে দীর্ঘ দিন পর গত ২৯ জুলাই আদালতের নির্দেশে ওই সিলগালাকৃত গুদামে থাকা ৮৮ মেট্রিক টন নিষিদ্ধ কীটনাশক আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংস করতে গিয়ে রীতিমতো আঁতকে ওঠেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। গুদামের তালা খুলে দেখা যায় শত টন মালপত্রের জায়গায় পড়ে রয়েছে কেবল ১২৩টি ছেঁড়া-ফাটা খালি প্যাকেট, যার ভেতরে জব্দকৃত বালাইনাশকের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। সিলগালা গুদাম থেকে এত বিশাল পরিমাণ মালামাল উধাও হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
/এএ