পঞ্চগড়ে দুই স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার্থী ৪, পাস করেনি কেউ
পঞ্চগড় করেসপনডেন্ট
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৩ এএম
পঞ্চগড়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে একজন এবং অন্যটি থেকে তিনজন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। চার পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
প্রতিষ্ঠান দু্ইটি হলো জেলার বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের বলরাম হাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বোদা সরদারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বলরাম হাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সে অকৃতকার্য হয়েছে। অন্যদিকে বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও তাদের কেউ পাস করতে পারেনি।
বিদ্যালয় দুইটি ঘুরে দেখা গেছে, বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী থাকার কথা ১০০ জন। তবে দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত পাওয়া যায়। এ সময় তিনজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। তবে প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ১০ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে বিদ্যালয়ের কোথাও কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। বিদ্যালয়টি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান হয় না। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এসে আবার চলে যান। শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও কম। তাদের দাবি, এমপিওভুক্তির আশায় প্রতিষ্ঠানটি কোনোভাবে চালু রাখা হয়েছে। আগের বছরগুলোতেও বিদ্যালয়টির ফলাফল ভালো ছিল না বলে তারা জানান।
এদিকে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ললিতা রানী বলেন, আমাদের স্কুল থেকে এবার একজন পরীক্ষা দিয়েছে, সে ফেল করেছে। সে পড়ালেখায় দুর্বল ছিল।
অন্যদিকে বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের কোনো সাইনবোর্ড নেই। সেখানে একটি কক্ষ রয়েছে, সেটি বন্ধ ছিল। পাশে টিনের ছাউনি দেওয়া একটি বড় ঘর থাকলেও সেটির দরজা-জানালা ও বেড়া নেই। বিদ্যালয়টির কার্যক্রম সম্পর্কে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়েও পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বোদা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুর ইসলাম বলেন, বোদা উপজেলায় দুইটি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন পরীক্ষার্থী ছিল, সে ফেল করেছে। আর বোদা সর্দারপাড়া বালিকা বিদ্যালয় থেকে তিনজন পরীক্ষার্থী ছিল, তিনজনই ফেল করেছে।
তিনি আরও বলেন, এই দুটি প্রতিষ্ঠানই নন-এমপিও। এখানে পাঠদানের ধারাবাহিকতা কখনও ছিল না। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো। প্রতিষ্ঠান দুইটিকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ফিডব্যাক ও লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
/এসআইএন