সংকটে জর্জরিত কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৬ এএম
চিকিৎসক, জনবল, ওষুধ আর নিরাপত্তাহীনতার মত নানা সংকটে জর্জরিত কুড়িগ্রামের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে জটিল রোগীদের পাঠানো হচ্ছে রংপুর কিংবা বেসরকারি ক্লিনিকে। ফলে কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে জেলার দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা ব্যয়।
জানাযায়, ২০১৭ সালে রোগীর চাপ বিবেচনায় ১০০ শয্যার কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। পরে ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে আটতলা নতুন ভবন নির্মিত হয়। কিন্তু নকশাগত ত্রুটির কারণে সেটি পুরোপুরি চালু করা যায়নি। গুরুতর অসুস্থ রোগী তোলার জন্য এই হাসপাতালে র্যাম্প নেই, লিফ্ট তো স্বপ্ন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কাঁচ ভেঙে, টাইলস খসে ঘটেছে একাধিক দুর্ঘটনা। ফলে, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন রোগী-স্বজন ও হাসপাতালে কর্মরতরা।
এদিকে, হাসপাতালের ১৭৭ চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ১৯ জন। অন্যান্য ৩৮৮টি পদের মধ্যে শূন্য ২৩১টি। ফলে জরুরি ও বহির্বিভাগে অধিকাংশ রোগী দেখছেন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার বা সেকমো'রা। রোগীদের অভিযোগ, প্রায় সব চিকিৎসাতেই নির্ভর করতে হচ্ছে তাদের ওপর।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে জটিল রোগীদের পাঠানো হচ্ছে রংপুর কিংবা বেসরকারি ক্লিনিকে। এতে কয়েকগুণ বাড়ছে চিকিৎসা খরচ। ভর্তি রোগীদের অভিযোগ, অনেক সময় ২৪ ঘণ্টায় একবারও চিকিৎসকের দেখা মেলে না। মেলে না প্রয়োজনীয় ওষুধও।
শুধু চিকিৎসক নয়, সমস্যা আছে সেবার প্রায় সব খাতে। প্রায় ২০ বছর পুরানো অ্যাম্বুলেন্স দিয়েই চলছে রোগী পরিবহন। মাঝপথে বিকল হলে দুর্ভোগে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা।
চিকিৎসক সংকট নিয়ে কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদ বলেন, নিয়োগ পাওয়া অনেক চিকিৎসক উচ্চশিক্ষার জন্য বদলি বা ছাড়পত্র নিয়ে চলে গেছেন। ফলে সংকট আরও বেড়েছে।
উল্লেখ্য, দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রায় ২৫ লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল এই হাসপাতাল।
/এসআর