×
Logo

সারাদেশ

বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ

ধর্ষণ-হত্যা মামলায় জবানবন্দি গ্রহণে ত্রুটি, আসামির ফাঁসি হাইকোর্টে বাতিল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম

ধর্ষণ-হত্যা মামলায় জবানবন্দি গ্রহণে ত্রুটি, আসামির ফাঁসি হাইকোর্টে বাতিল

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ভাতিজিকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় চাচা নুর মোহাম্মদের ফাঁসির রায় বাতিল করে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (২৭ জুলাই) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে ২০১৯ সালের ১ আগস্ট পিরোজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মিজানুর রহমান নুর মোহাম্মদকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

মামলার অভিযাগপত্র থেকে জানা যায়, নুর মোহাম্মদ ৩টি বিয়ে করলেও স্ত্রীরা সবাই তাকে ছেড়ে চলে যায়। একাই থাকতেন তিনি। ২০১০ সালের ২১ মার্চ সকালে আমেনা আক্তার তার ছোট দুই ভাইয়ের সঙ্গে বাড়িতে ছিল। আমেনার মা গরু নিয়ে মাঠে যান। এ সময় চাচা নুর মোহাম্মদ আমেনাকে বাঁশ কাটার কথা বলে ঘর থেকে ডেকে বাড়ির পাশের বাগানে নিয়ে ধর্ষণ শেষে হত্যা করেন এবং লাশ পাশের খালে ফেলে দেন। এ ঘটনায় নিহত আমেনা আক্তারের মা ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতার হয় নুর মোহাম্মদ। পরে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।

একই বছরের ৩১ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মঠবাড়িয়া থানার এসআই রুহুল আমিন নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। মামলায় ১০ জন সাক্ষ্য দেন।

তবে উচ্চ আদালতে এসে খালাস পেলেন অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদ। মেডিকেল রিপোর্টে শিশু আমেনাকে নুর মোহাম্মদ ধর্ষণ করেছেন সেই আলামত পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ আছে। পাশাপাশি ময়নাতদন্ত করা চিকিত্সকের সাক্ষ্যতেও সেই তথ্য উঠে আসে।

এছাড়া, বিচার চলাকালে একপর্যায়ে নুর মোহাম্মদ পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন, তখন তিনি গ্রেফতার ছিলেন। সাক্ষ্যগ্রহণকালে তাকে হাজির করা যায়নি। ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে আদালত জানতে পারেন নুর মোহাম্মাদ মানসিক হাসপাতালে ভর্তি।

আইনজীবীরা বলছেন, আসামি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি জেনেও বিচার চালিয়ে গেছেন। যা আইন অনুযায়ী উচিত হয়নি।

তারও আগে ২০১০ সালে ১৩ এপ্রিল আসামি নুর মোহাম্মদ ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি গ্রহণ করেন তৎকালীন পিরোজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কবির উদ্দিন প্রামাণিক।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬৪ ধারা অনুযায়ী বিচার চলাকালীন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যদি মনে হয় আসামি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং নিজের পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থনে অক্ষম, তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করবেন। ম্যাজিস্ট্রেট তখন জেলার সিভিল সার্জন বা উপযুক্ত চিকিৎসকের মাধ্যমে আসামিকে পরীক্ষা করাবেন। চিকিৎসককে সাক্ষী হিসেবে জেরা করে তার জবানবন্দি লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করবেন। কিন্তু এসব বিধান উপেক্ষা করেই নুর মোহাম্মদের জবানবন্দি নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সাবেক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. কবির উদ্দিন প্রামাণিকের কাছে হাইকোর্ট ব্যাখ্যা চাইলে গত ২৬ জুলাই আদালতে উপস্থিত হয়ে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। ফলে হাইকোর্ট মন্তব্য করেন মো. কবির উদ্দিন প্রামাণিক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য; এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রনালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, নুর মোহাম্মদকে মানসিক হাসপাতালে চিকিত্সা দিতে নির্দেশনাও দিয়েছেন হাইকোর্ট।

/এমএন

Logo