ইলিশের ভরা মৌসুমেও দেশের অন্যতম বৃহৎ ইলিশের পাইকারি বাজার চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে সরবরাহ কমেছে কয়েক গুণ। এতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে রুপালি ইলিশের দাম। সরবরাহ কম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও আড়তের শ্রমিকরাও। তবে, কেন কমছে ইলিশের উৎপাদন এর কারণ অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে বিশেষজ্ঞ দল।
এদিকে, মৌসুমে জেলেদের ব্যস্ততা বাড়লেও আশানুরূপ মাছের দেখা নেই নদীতে। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টার পরও অনেক জেলে ফিরছেন প্রায় খালি হাতে। পরিসংখ্যান বলছে, গত দুই বছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন কমেছে ৪২ হাজার মেট্রিক টন।
জানা যায়, কয়েক বছর আগেও এ সময়ে চাঁদপুরের মাছঘাটে, প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার মণ ইলিশের বেচাকেনা হতো। তবে, এবার বাজারে আসছে না ১০০ মণ মাছও। সরবরাহ কমে যাওয়ায় এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় তিন হাজার টাকায়।
এ বিষয়ে মৎস্যজীবীরা বলছেন, নির্বিচারে জাটকা নিধন, অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার, নাব্যতা সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব; নদীতে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা তৈরি করছে। সরবরাহ কম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও আড়তের শ্রমিকরা।
এ বিষয়ে চাঁদপুরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ইলিশ সম্পদের উন্নয়নে বিশাল নদী অঞ্চলে কাজ করা হচ্ছে। নানা উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এর ইলিশ গবেষক ও সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আনিছুর রহমান বলেন, সংকটের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে এরইমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল কাজ শুরু করেছে।
এদিকে চাঁদপুরের মেঘনা ও পদ্মা নদীতে ইলিশ'সহ বিভিন্ন মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় অর্ধলক্ষ জেলে।
/এসআর