×
Logo

সারাদেশ

কুড়িগ্রামে এইচএসসি কেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনুপস্থিত, ধার করা কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা

স্টাফ করেসপনডেন্ট, কুড়িগ্রাম

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

কুড়িগ্রামে এইচএসসি কেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনুপস্থিত, ধার করা কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষার ৩টি কেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা অনুপস্থিত। তাই, পরিস্থিতি সামলাতে পরীক্ষা শুরুর পর মুঠোফোনের মাধ্যমে 'ধার করা' কর্মকর্তাদের ডেকে দায়িত্ব দিয়ে পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়। 

সোমবার (১৩ জুলাই) পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের পরীক্ষার দিন এ ঘটনা ঘটে।  

উপজেলার নাগেশ্বরী সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন। মূলত, তিনিই অনুপস্থিত থাকায়, সকালে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ধার করা) কামরুল ইসলাম প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন। এরপর কামরুল ইসলাম  পরীক্ষা শুরুর প্রায় আধা ঘণ্টা পর ধার করেন আরেক উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেনকে। তাকেও ফোন করে কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য ডাকা হয়।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেন জানান, তিনি কচাকাটা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের ট্যাগ কর্মকর্তা ছিলেন। অফিসে প্রতিবন্ধী জরিপ থাকায় ছুটিতে ছিলেন। পরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুরোধে, নাগেশ্বরী সরকারি কলেজ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তবে, আমার জায়গায় কচাকাটায় কাকে দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আমি জানি না।  

জামাল হোসেন আরও বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম কল করে বলেন, সরকারি কলেজে আসতে। প্রথমে না করেছি। কারণ ১১ টায় আমার অফিসে প্রতিবন্ধী জরিপ শুরু হবে। এরপরে আমি এসেছি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন বলেন, তিনি ছুটিতে ছিলেন। ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েই ছুটি নিয়েছিলেন।

নাগেশ্বরী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. আনোয়ার হোসেন মণ্ডল বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় পরে যিনি এসেছেন, তাকে আমি বলেছি চিঠি এনেছেন কিনা? উত্তরে বললো, চিঠি হয়নি, ততক্ষণে পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে। আমাদের মুল লক্ষ্য ছিল সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা শেষ করা।

নাগেশ্বরী মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন প্রশিক্ষণে থাকায় সেখানে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন বলে জানান কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জালাল হোসেন।

অন্যদিকে, কচাকাটা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজ সেবা কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুঠোফোনে কেদার ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে দায়িত্ব দেন।

ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ফোন পেয়ে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এ বিষয়ে ইউএনও'র কোনো নির্দেশনা তিনি পাননি।

কচাকাটা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় ফোনে পাঠানো দুই কর্মকর্তাকে ইউএনও স্যার পাঠিয়েছেন তারা এটাই বলেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় পরীক্ষাকেন্দ্র বেশি হলেও পর্যাপ্ত কর্মকর্তা নেই। তাই তিনি নিজ উদ্যোগে কয়েকজন সহকারী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এ বিষয়ে ইউএনওর নির্দেশনা ছিল না বলেও জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খোদাদাদ হোসেন বলেন, ট্যাগ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কেউ দায়িত্বে না গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর মুঠোফোনে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি যদি হয়ে থাকে, তার দায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার। মুঠোফোনে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও ইউএনও ভালো বলতে পারবেন। 

এত বড় একটি পাবলিক পরীক্ষায় লিখিত আদেশ ছাড়াই শুধু মুঠোফোনে ট্যাগ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়াকে প্রশাসনিক উদাসীনতা হিসেবে দেখছেন স্থানীয়দের অনেকে।

এবার কুড়িগ্রাম জেলায় এইচএসসি, আলিম ও ভোকেশনাল মিলিয়ে ৫০টি কেন্দ্রে মোট ১৯ হাজার ১৮০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে নাগেশ্বরী উপজেলায় আটটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯৭৬ জন।

/এমএসটি 

Logo