খাগড়াছড়িতে প্রধান সড়ক নিমজ্জিত, বিচ্ছিন্ন সাজেক-বাঘাইছড়ি যোগাযোগ
স্টাফ করেসপনডেন্ট, খাগড়াছড়ি
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
ফাইল ছবি
খাগড়াছড়িতে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। প্লাবিত হয়ে নতুন করে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে সহস্রাধিক পরিবার। বুধবার (৮ জুলাই) মাইনী, চেঙ্গী ও ফেনী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দীঘিনালা ও জেলা সদরের নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে গেছে। দীঘিনালা-সাজেক ও লংগদু সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় জেলা সদরের সাথে সাজেক, বাঘাইছড়ি ও লংগদুর সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর ফলে পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে আটকা পড়েছেন অন্তত ৪৬১ জন পর্যটক।
সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে দীঘিনালা উপজেলায়। মাইনী নদীর পানি বেড়ে কবাখালী ও মেরুংয়ের নিচু এলাকা এবং মূল সড়ক তলিয়ে গেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে দীঘিনালা ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, ফলে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
এদিকে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের মুসলিমপাড়া, মেহেদীবাগ, গঞ্জপাড়া, বটতলী, পেরাছড়া, লার্মাপাড়া ও দ্রোণাচার্য পাড়াসহ বেশ কিছু এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়ে কয়েকশত পরিবার পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ছাড়া নেন্সিবাজার, মোল্লাাপাড়া, কলাবাগান, শালবন ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন পাহাড়ের ঢালে অবস্থানরত সহস্রাধিক পরিবার চরম পাহাড় ধসের ঝুঁকি নিয়ে দিন পার করছেন।
উদ্ধার ও সহায়তা তৎপরতা চালুর অংশ হিসেবে জেলা জুড়ে ইতোমধ্যে ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়া শতাধিক পরিবার ইতোমধ্যে এসব আশ্রয়ে ঠাঁই নিয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢাল ও নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্ন মাইকিং করা হচ্ছে।
দুর্গতদের সহায়তায় স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলো এগিয়ে এসেছে। খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়ার উদ্যোগে দলীয় নেতাকর্মী এবং স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চাল-ডালসহ রান্না করা গরম খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পূর্ণ প্রস্তুতির কথা জানিয়ে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সাধারণ মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্গতদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি ২৪ ঘণ্টা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
/এএ