চট্টগ্রামে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে সহস্রাধিক পরিবার, ধসের শঙ্কায়ও সরতে নারাজ
আল-আমিন সিকদার
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
চট্টগ্রামে পাহাড়ের পাদদেশে অবৈধ বসতি ঠেকানো যাচ্ছে না কিছুতেই। বন্দরনগরীর ২৬টি পাহাড়ে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে অন্তত সহস্রাধিক পরিবার। এসব এলাকায় রয়েছে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ। প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে প্রাণহানির শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন। তবে বসবাসকারীরা সরতে নারাজ।
বায়েজিদের রৌফাবাদ মিয়া পাহাড়ে দেখা যায়, পাহাড়টির ভাঁজে ভাঁজে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ বসতঘর। নিয়মিত পাহাড় কাটার কারণে বৃষ্টি শুরু হলেই পাহাড় বেয়ে নেমে আসে কর্দমাক্ত পানির ঢল, যা দেখতে অনেকটা পাহাড়ি ঝর্ণার মতো।
এদিকে, গত দু-তিন দিনের বিরামহীন বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় জেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসরতদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করছে। তবে বাসিন্দাদের অনেকেই বিভিন্ন অজুহাতে সরে যেতে রাজি নন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, কি করব আমাদের জায়গা সম্পদ নেই। আমরাও এখন বলা যায় অসহায়ের মতই তো আছি। কি করব কোথায় যাব, বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে আমরা কোথায় থাকব।
অপর এক বাসিন্দা বলেন, এতদিন যেহেতু আছি আমাদের কখনও এরকম লাগেনি ঝুঁকিপূর্ণ কিংবা আমাদের এরকম বর্ষাকালটা প্রথমবার দেখা যাচ্ছে আরকি।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ২৬টি পাহাড়ে অন্তত সহস্রাধিক পরিবারের বসবাস রয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধস ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা অনেকটা নিয়মিত চিত্র। বৃষ্টি শুরু হলে প্রশাসনের তৎপরতা দেখা গেলেও বছরের বাকি সময় এ বিষয়ে কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে। অবৈধ বসতি হলেও এসব এলাকায় পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা রয়েছে।
পাহাড় কাটা ও অবৈধ বসতি বন্ধে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি ৩০টির বেশি সুপারিশ করলেও এখন পর্যন্ত একটিও বাস্তবায়ন হয়নি। দখলদারদের তালিকা থাকলেও অভিযান পরিচালিত হয়নি। এছাড়া গত বছরের সভায় গৃহীত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সব ধরনের ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্তও কার্যকর হয়নি।
চট্টগ্রামের সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্লাবন কুমার বিশ্বাস বলেন, এখানে যে ইউটিলিটিগুলো দেওয়া হয় গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, এগুলো নিয়েও একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। আশা করি এবার পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটিতে আরও জোরদার কোনো সিদ্ধান্ত আমরা পাবো।
/এএন