ট্রেনের যাত্রীদের বিনামূল্যে পানি পান করান মুন্নু শেখ, কিন্তু কেন?
রাজবাড়ী করেসপনডেন্ট
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
পানির বোতল ভর্তি বালতি হাতে প্লাটফর্মে ট্রেনের জানালায় হাকডাক দিচ্ছেন এক ব্যাক্তি। প্রথম দেখায় যে কেউ ভাববেন হকার, কিন্তু না। বিনামূল্যে চার বছর ধরে ট্রেনের তৃষ্ণার্ত যাত্রীদের মধ্যে পানি বিতরণ করে বেড়াচ্ছেন তিনি। যার নাম মুন্নু শেখ, তার বাড়ি রাজবাড়ীর কালুখালীতে।
মুন্নু শেখ পেশায় একজন চটপটি বিক্রেতা। দুপুর নাগাদ খুলনাগামী নকশিকাঁথা মেইল ট্রেন কালুখালী স্টেশনে পৌছানোর পূর্বে তিনি পানি নিয়ে হাজির হন প্লাটফর্মে। আর ট্রেন থামা মাত্রই যাত্রীদের হাতে তুলে দেন পানির বোতল।
২০১৮ সালে মুন্নু শেখের ৯ বছর বয়সী ছেলে সবুজ শেখের ক্যানসার ধরা পড়ে। ছেলেকে নিয়ে নিয়মিত ট্রেনে করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাতায়াত করতেন তিনি। অনেক সময় ফেরার পথে অসুস্থ ছেলেকে এক বোতল পানি কিনে দেওয়ার মতো টাকাও থাকত না তার কাছে।
ক্যানসারের কাছে হার মেনে ২০২০ সালে না ফেরার দেশে চলে যায় সবুজ। সন্তানের মৃত্যুতে মুন্নু শেখ ভেঙে পড়েন, তবে দমিয়ে যাননি। তিনি তখন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন ট্রেনে কোনো তৃষ্ণার্ত যাত্রীকে পানির কষ্ট পেতে দেবেন না। সেই থেকেই প্রতিদিন ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী নকশিকাঁথা মেইল ট্রেন কালুখালী স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই নিজের চটপটির দোকান বন্ধ করে পানি সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। এরপর পানির বোতল হাতে ছুটে যান ট্রেনের প্রতিটি বগির সামনে। তৃষ্ণার্ত যাত্রীদের হাতে তুলে দেন এক এক করে পানির বোতল। তার এমন উদ্দ্যোগে মুগ্ধ হচ্ছে ট্রেনের যাত্রীসহ সাধারণ জনগণ।
মুন্নু শেখ বলছিলেন, যখন ছোট কোনো শিশুর হাতে পানি তুলে দিই, তখন আমার ছেলে সবুজের মুখটাই চোখের সামনে ভেসে ওঠে। মনে হয়, যেন ওকেই পানি খাওয়াচ্ছি। যতদিন বাঁচবো, এভাবে পানি খাইয়ে যাবো।
তিনি জানান, চটপটি বিক্রির পাশাপাশি যাত্রীদের পানি খাওয়ানোর জন্য বোতল সংগ্রহ করেন। ট্রেন আসার আগে বোতলগুলো ভালো করে ধুয়ে টিউবওয়েলের পানি ভর্তি করে রাখেন। ট্রেন আসা মাত্রই ছুটে যান যাত্রীদের কাছে।
পানি খাওয়াতে গিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই ঘণ্টা দোকান বন্ধ রাখতে হয় বলে জানালেন মুন্নু শেখ। এতে আর্থিকভাবে কিছুটা ক্ষতি হলেও কোনো আক্ষেপ নাই তার। মানুষের মুখে হাসি দেখতেই যে শান্তি মিলে তার।
/এমএন