×
Logo

সারাদেশ

কাপ্তাই হ্রদে জেগে উঠেছে বিস্তীর্ণ চর, বাড়ছে উদ্বেগ

আল আমিন সিকদার

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৯ এএম

কাপ্তাই হ্রদে জেগে উঠেছে বিস্তীর্ণ চর, বাড়ছে উদ্বেগ

বর্ষা মৌসুম চললেও রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে পানির স্তর। পানি কমে যাওয়ায় হ্রদের বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে বিস্তীর্ণ চর। এতে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে কয়েকটি উপজেলা। বছরের পর বছর পলি জমে হ্রদ ভরাট হলেও ড্রেজিং না হওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে রাঙামাটির মানুষের জীবন-জীবিকায়।

বছরের এই সময়ে কাপ্তাই হ্রদে পর্যাপ্ত পানি থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে হ্রদের বিভিন্ন স্থানে বিস্তীর্ণ চর দেখা যাচ্ছে। নাব্য সংকটের কারণে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। রাঙামাটির দুর্গম উপজেলা বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, বাঘাইছড়ি ও লংগদুর সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এই হ্রদ। কিন্তু নৌযান পুরোপুরি চলতে না পারায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

স্থানীয়রা জানায়, হ্রদে পর্যাপ্ত পানি থাকলে যাতায়াতে অনেক সুবিধা হতো। কিন্তু বর্তমানে নৌকা ও লঞ্চ চালাতেও কষ্ট হচ্ছে। 

শুধু যোগাযোগ নয়, এর প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে খরচ বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, পানি সংকটে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রেও বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। ৫টি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে ২টি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। বাকি ৩টি ইউনিটে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৯৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। 

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান বলেন, হ্রদে পলি জমে যাওয়াই পানি কমে যাওয়ার একমাত্র কারণ। দ্রুত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পলি অপসারণ করা গেলে নেভিগেশনের সমস্যা থাকবে না। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পানিও রিজার্ভে রাখা যাবে। 

রাঙামাটির মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম ভরসা কাপ্তাই হ্রদ। তাই হ্রদের নাব্য ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ড্রেজিং শুরুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

/এএন

Logo