চাঁদপুরে মাকে হত্যার অভিযোগের ছেলে গ্রেফতার
স্টাফ করেসপনডেন্ট, চাঁদপুর
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০১:২১ এএম
চাঁদপুরের মতলব উত্তরের কলাকান্দা ইউনিয়নের কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। পারিবারিক ক্ষোভ থেকে মা মজিদা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে ছেলে মো. জনিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন মতলব সার্কেলের এএসপি জাবীর হুসনাইন সানীব।
তিনি জানান, গত ২৫ জুন ৯৯৯-এর সংবাদের ভিত্তিতে মতলব উত্তর থানাধীন কলাকান্দা ইউনিয়নের একটি কলাবাগান থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটির মাথার খুলি থেকে চুল খসে পড়েছিল এবং বাম হাত ও বাম পা হাঁটুর নিচ থেকে শেয়াল খেয়ে ফেলায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না।
তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পিবিআই ও সিআইডিকে অবহিত করা হয়।
মামলাটি সম্পূর্ণ ক্ল্যুলেস হওয়ায় চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় মতলব সার্কেলের এএসপি জাবীর হুসনাইন সানীবের নেতৃত্বে বিশেষ টিম গঠন করা হয়। মতলব উত্তর থানার ওসি কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে এসআই সাদেক, এসআই মিজান, এসআই রেজাউল ও এএসআই রবিউলের সমন্বয়ে গঠিত টিম তদন্ত শুরু করে। প্রতিদিন রাতে তদন্তের অগ্রগতি মনিটরিং করা হয়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লোকেশন বিশ্লেষণ ও ম্যানুয়াল সোর্সিংয়ের মাধ্যমে মো. জনি নামের এক ব্যক্তির ওপর সন্দেহ হয়। তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।
গ্রেফতারকৃত জনি জানায়, তার মা মজিদা বেগম ৩টি বিয়ে করেন। ছোটবেলা থেকে বাবা-মায়ের আদর ছাড়া মামাবাড়িতে নিগৃহীত হয়ে বড় হওয়ায় মায়ের প্রতি তার দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। জনি ঢাকায় ফল বিক্রেতা হিসেবে কাজ করত।
পারিবারিক অশান্তির জেরে গত ১৭ জুন সে তার মাকে ছেঙ্গারচর বাজার থেকে অটোরিকশাযোগে কলাকান্দা ইউনিয়নের ওই কলাবাগানে নিয়ে যায়।
সেখানে কলাবাগানের দুই আইলের মাঝে জমে থাকা পানিতে মাকে চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে নিহতের মোবাইল ফোনটি দূরবর্তী একটি পুকুরে ফেলে দেয়।
গ্রেফতারকৃত আসামি জনিকে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত ও নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। আসামিকে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে।
/এমএইচআর