টঙ্গীতে চাঁদা দাবির ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ১১
স্টাফ করেসপনডেন্ট, গাজীপুর
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
গাজীপুরের টঙ্গীতে ঝুট ব্যবসায়ীর কাছে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে কারখানার মালামাল নামাতে বাধা, সশস্ত্র মোটরসাইকেল মহড়া, অস্ত্র ও ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন মণ্ডলসহ ১৯ জনকে এজাহারনামীয় এবং আরও ৭০/৮০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মনোয়ার হোসেন (২৮), কাজী তৌহিদুল সজীব (৩৫), রনি খাঁ (৩৯), মো. রিয়াজন ওরফে রাজন (৩০), জাহাঙ্গীর শেখ ওরফে জমির (২৭), জহির (৩৩), বায়জিদ (২৯), রাজিব হাসান (২৯), হোসাইন (৩৪), মো. রাসেল ওরফে খাবরী (২৮), মো. সাগর ওরফে নয়ন (২০)।
মামলার বাদী নূরজ্জামান জামাল জানান, টঙ্গীর পাগাড় পাঠানপাড়া এলাকার ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার লিমিটেড কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাতিল কার্টন, পলি, ড্রাম, পুরোনো লোহা-লক্কড়সহ বিভিন্ন ধরনের পরিত্যক্ত মালামালের ব্যবসা করে আসছেন।
তার অভিযোগ, গত কিছুদিন ধরে যুবদল নেতা নাজমুল হোসেন মণ্ডলের নেতৃত্বে একটি চক্র তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, গত ২৮ জুন তার লোকজন কারখানা থেকে বাতিল মালামাল নামাতে গেলে ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি সশস্ত্র দল মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার কারখানার চারপাশ ঘিরে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে নাজমুল হোসেন মণ্ডলসহ কয়েকজন আবারও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা উত্তেজিত হয়ে মালামাল গাড়িতে তোলায় বাধা দেয় এবং তার লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি আমলে নিয়ে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গত মঙ্গলবার ও বুধবার দিবাগত রাতে টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১১ জনকে গ্রেফতার করে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
/এসআইএন